আমের মুকুল
তোমায় মনে করে, অভিশিক্ত দিনগুলোর কথা ভুলার চেষ্টা করি মাত্র। কি ছিল সেই দিনগুলিতে? আঁখির সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি। আঁখির বেইমানি! নাকি পুলকের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার অভিশাপ। স্মৃতিপটে এখনও ভাসে,
আর সহ্য হল না আঁখির। দ্রুত ছুটে যায় পুলককে খুঁজতে। সামনাসামনি হতেই আম ফুল হাতে পুলক আগে জিগ্যেস করে,
- এই যে, তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? লজ্জাবতীর মতো চুপসে যায় আঁখি। মেয়ে হয়ে কি করে আগে বলবে সে। যদিও সে জানে, পুলক তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। সবসময় তাকে আড়াল দৃষ্টিতে রাখে। কিন্তু পুলক ছেলে হয়ে, কেন এখনও বলেনি তাকে। এবার যেন রাগে ফুঁসে আঁখি। সবার খোঁচা-কথা, কেন সে সহ্য করবে? তারও তো মনের চাওয়া-পাওনা থাকতে পরে! এ কথাটা কেন পুলক বুঝাতে পারে না? - তার ভয়!- হতে পারে। আমাকে হারানোর ভয়! কেন? আমিও তো তাকে...। মনে মনে বলে জিহ্ব কাটে আঁখি।
- তুমি কিছু বলতে চেয়েছিলে তো? থতমত খেয়ে উঠে আঁখি। বিস্ময় আবেগ পুলক এক সাথে আঁকড়ে ধরে তাকে। খানিকটা তোতলিয়ে বলে,
- তু-থু-মি কি-খি-ছু বো-বো-ঝতে পারো না?
- কী ? এমন করে বলছো কেন? পুলক জানে, এটা আঁখির অপ্রকাশিত রাগের লক্ষণ।
- সবাই তোমাকে হিংসা করে।
- কেন? কি হয়েছে?
- কাল স্যার থেকে কি বলে টাকা নিয়েছো।
- পাহাড় থেকে যারা রান্নার লাকড়ি এনেছে, তাদেরকে বিস্কুট খাওয়াবো বলে।
- তাহলে আমাদেরকে খাওয়াতে গেলে কেন?
- তোমরাও তো পুজোর কাজ করছো।
- কেন? স্যার কিছু বলেছে!
- না। বাকিরা আমাকে দেখে কীসব আজেবাজে বলাবলি করে, খোঁচা মেরে।
- কি বলে?
- তুমি খুব চালাক!
- কেন? আমি কি করেছি? এক্খন গিয়ে জিগ্যেস করবো ওদেরকে। হাতে ধরে আটকায় আঁখি। বলে,
- না গো। তুমি আর বাড়াতে যেও না। ওদের মুখে কিছু আটকায় না।
- তোমায় কেউ কিছু বললে আমার যে সহ্য হয় না। লজ্জায় মাথা নুইয়ে নেয় আঁখি। ভাবে - মেয়ে হয়ে এ কি বললাম আমি! এই প্রথম আঁখির ছোঁয়া পেল পুলক। তড়িৎ বর্তনীর হাই ভোল্টেজ শক্ যেন সারা শরীরে বর্তায়। হকচকিয়ে উঠে দেহমন। মনে হল কয়েক হাজার কোটি ইলেকট্রন তার পা ছুঁয়ে পাতালে চলে গেছে মুহূর্তে। বিমুগ্ধ পুলকের উপরি ভাগ আঁখির দুর্বিনীত স্তনযুগলের উপর পড়ে আছে। নরম ছোঁয়ায় সে ভ্যাবাচ্যাকা। আঁখির মুখেও নীরব হাসি। ভাঙা ঠোঁটে না বলা, কথকতা! কিন্তু মনে ভয়! যদি কেউ দেখে ফেলে। সমাজে তার মাথা তুলে দাঁড়ানো দায় হবে। কিন্তু সে-ও চায়! এমন আনকোরা প্রেমিককে একবার বুকে জড়িয়ে নিতে। তার আগেই সোজা হয়ে যায় পুলক। শাড়ি পরা নাইনের আঁখি, তার হাতের আম ফুল নিয়ে লজ্জায় দৌড়ে পালায়, প্রতিমার ঘরের দিকে।
আজকাল দুজন পরস্পরের দূরবর্তী ঠিকানায় থাকলেও বাঙালি ভেলেন্টাইম দিনে, দুজন মনে মনে খুব কাছের মনে করে। কখনও যে সেই দৃশ্য, এক সাথে ভেসে উঠে স্মৃতিপটে, কেউ জানে না। আঁখিহার পুলকের মুখ পুলকিত হয়.... কিন্তু পুলকহারা আঁখিকে কাঁদায় বরাবরের মতো......
No comments:
Post a Comment