দ্বান্দ্রিক সতী (শেষ পর্ব)
ওকে, এভাবে যখন যা খুশি হবে তা তো হয় না ।
বুঝলাম দেহ মনের এককেন্দ্রীকরণ হল- জাহান্নাম বুঝলি অভিক জাহান্নাম ।
রবির কথা প্রায় শেষ না হতেই উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে উঠল শ্যামল ।
এমন সময় দুই ব্যাটারির টর্চ নিয়ে হাতে হন্তদন্ত হয়ে হাজির হল সান্টু । ও হাঁপাচ্ছে । কিছু একটা চমক দেওয়া খবর নিয়ে এসেছে দেখেই বোঝা গেল। শ্যামলের হাত থেকে এক ঝটকায় সিগারেটের টুকরোটা নিয়ে কষে দুই-টান দিলো। সবাই উত্তেজনায় টান-টান।
জানিস বন্ধু রুমিসি আর সমুদার বিয়ে হয়ে গেছে। 'বিনামেঘে বজ্রপাত ' বাংলায় একটা কথা আছে তার যথাযথ বোধগম্য করার সুযোগ উপস্থিত আগে কারোর হয়নি। এই মুহূর্তে সকলে যথাযথ অর্থে বুঝালো বিনামেঘে বজ্রপাত কাকে বলে।
হতবাক অভিক অস্ফুটে বললো ' বাচ্চা দুটি'। সিগারেটের সুখটান বড় আয়েসে টেনে ফুস-স-স করে লম্বা ধোঁয়া ছেড়ে সান্টু জবাব দিলো সমুদার কাছেই থাকবে ।
তাইতো,এবার তুই ক'চে অভিক হেতি কি সতী ,না অসতী ,না নষ্টা, নাকি সমুদারে এতদিন যাচাই কইরছে, সমুদা আসলে হেতি রে ভালোবাসেনি। জোরালো জিজ্ঞাসা স্বপনের।অভিক মনে মনে ভাবলো জান জট পৃথিবীর সেরা জট, এই মহিলার চরিত্রের জট আরো সেরা। হেরে যাওয়া ভঙ্গিতে শেষবারের মত আমতা , আমতা করে প্রকাশ্যে বললো - সবটাই নির্ভর করে সমাজের ঔদার্য আর দৃষ্টিভঙ্গীর উপর । একটা ঘন্টা আমি যেভাবে প্রত্যক্ষ করেছি, রবি সেভাবে করেছে না, রবি যেভাবে করেছে শ্যামল সেভাবে করবে না , এর চেয়ে বেশি কিছু না ।
অনেক রাত হয়েছে । সবাই বাড়ির দিকে পা বাড়ালো । আসর মুলতুবি রইলো সেদিনের মত । যেতে যেতে ক্রিকেট প্রেমিক রবি বললো - সমাজের কষানো ফিল্ডিং আর কঠোর সমালোচনা নিন্দা বলের সামনে রুমিদির সতীত্বের উইকেট ভেঙে গেছে এটা ঠিক । কিন্তু যেহেতু এখনো বিতর্কিত , চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন উপরের এই থার্ড আম্পায়ার যিনি নিস্ফলক দৃষ্টিতে সব দেখেছেন ।
তিনিই শেষ কথা বলার মালিক ।
No comments:
Post a Comment