Wednesday, May 8, 2019

সৈকত সরকার

হলুদি ব্যাপারি

১.
দাঁড়ান!
চমৎকার চমকানো একটি শিরোনাম খেয়ে যান,
স্বাদটা মন্দ নয়
মরিচ মশলা দিয়ে কষানো।

২.
চতুর্থ খুঁটির বারোআনাতেই ঘুণ,
কতিপয় চাটু অবসরে যাওয়া মেকুরের স্থলাভিষিক্ত।
অশ্বডিম্ব হতে বাচ্চা ফুটবে কবে তা নিয়ে তর্ক,
লেজধরে নাচানাচি মিথ্যা ফানুসের।
পৌনে পাতার বিজ্ঞাপনে ঢেকে গেলো -
শহরের বুকে ধর্ষিত ঝি মানুষের।।

৩.
স্বাবকতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ
তুমি হলুদি ব্যাপারি
এতই যদি ভয়
তবে ছাড়ো খবর!
তৈল মর্দন সার্থ উদ্ধার
সত্য দিলে কবর!

কল্যাণব্রত বসাক

দ্বান্দ্রিক সতী (শেষ পর্ব)

ওকে, এভাবে যখন যা খুশি হবে তা তো হয় না ।
বুঝলাম দেহ মনের এককেন্দ্রীকরণ হল- জাহান্নাম  বুঝলি অভিক জাহান্নাম ।
রবির কথা প্রায় শেষ না হতেই উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে উঠল শ্যামল ।
এমন সময় দুই ব্যাটারির টর্চ নিয়ে হাতে হন্তদন্ত হয়ে হাজির হল সান্টু । ও হাঁপাচ্ছে । কিছু একটা চমক দেওয়া খবর নিয়ে এসেছে  দেখেই বোঝা গেল। শ্যামলের হাত থেকে এক ঝটকায় সিগারেটের টুকরোটা নিয়ে  কষে দুই-টান দিলো। সবাই উত্তেজনায় টান-টান।
জানিস বন্ধু রুমিসি আর সমুদার বিয়ে হয়ে গেছে।  'বিনামেঘে বজ্রপাত ' বাংলায় একটা কথা আছে তার যথাযথ বোধগম্য করার সুযোগ উপস্থিত আগে কারোর হয়নি। এই মুহূর্তে  সকলে যথাযথ অর্থে বুঝালো বিনামেঘে বজ্রপাত কাকে বলে।

  হতবাক অভিক অস্ফুটে বললো ' বাচ্চা দুটি'। সিগারেটের সুখটান  বড় আয়েসে টেনে ফুস-স-স করে লম্বা ধোঁয়া ছেড়ে সান্টু জবাব দিলো সমুদার কাছেই থাকবে ।
তাইতো,এবার তুই ক'চে অভিক হেতি কি সতী ,না অসতী ,না নষ্টা,  নাকি সমুদারে এতদিন যাচাই কইরছে, সমুদা আসলে হেতি রে  ভালোবাসেনি। জোরালো জিজ্ঞাসা স্বপনের।অভিক মনে মনে ভাবলো জান জট পৃথিবীর সেরা জট, এই মহিলার চরিত্রের জট আরো সেরা। হেরে যাওয়া ভঙ্গিতে শেষবারের মত আমতা , আমতা  করে প্রকাশ্যে বললো - সবটাই নির্ভর করে সমাজের ঔদার্য আর দৃষ্টিভঙ্গীর উপর । একটা ঘন্টা আমি যেভাবে প্রত্যক্ষ করেছি, রবি সেভাবে করেছে না, রবি যেভাবে করেছে শ্যামল সেভাবে করবে না , এর চেয়ে বেশি কিছু না ।

অনেক রাত হয়েছে । সবাই বাড়ির দিকে পা বাড়ালো । আসর মুলতুবি রইলো সেদিনের মত । যেতে যেতে ক্রিকেট প্রেমিক রবি বললো - সমাজের কষানো ফিল্ডিং আর কঠোর সমালোচনা নিন্দা বলের সামনে রুমিদির সতীত্বের উইকেট ভেঙে গেছে এটা ঠিক । কিন্তু যেহেতু এখনো বিতর্কিত , চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন উপরের এই থার্ড আম্পায়ার যিনি নিস্ফলক দৃষ্টিতে সব দেখেছেন ।
তিনিই শেষ কথা বলার মালিক ।

দুলাল চক্রবর্তী

শুধু তোমারী জন্য

ফাগুনের ফুড়ফুড়ে হাওয়া
কোকিলের কুহুতান,
মনে করে দেয়
নিজের অজান্তে,
ঋতুরাজ তব আগমন।
পলাশের রক্তলাল রং
মনের আকুতিকে ছু্ঁয়ে
বলে দেয় আমি এসেছি।
বরণ ডালা সাজায়ে
পুণ্য প্রভাতে তোমারি দ্বারে।
মনের তিয়াষ মনের বাসনা
হাজারো রঙিন স্বপ্ন!
অনন্তকাল ধরে রবে নিরবধি
ধরাতো যাবেনা তারে,
শত পসরার মাঝে
খুঁজেমরি শুধু আমি,
অবুঝ আমার চেতনা।
তবুও তৃপ্ত, গ্লানিহীন আমি
তব পদচারনায়।
অনুভবে শুধু পেতে চায়
আমারি আকুল বাসনা।

পূজা মজুমদার

প্রথম বার্ষিকী
            

গতবছরের আজটা
আছে  মনে   
স্মৃতিগুলি ধরা দেয় আনমনে
সেই সারাটা দিন খুনশুটি
তারপর
দুটি বিপরীত মন ডুবেছিলো
গুটি গুটি.

অবাক ছিলো দুজনাই,
অতীতকে কখনোও 
মনে না করে দেওয়ার
ছিলো রোশনাই!

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত দুটো....

একজন ছিলো ঘর ছূট্,  
একজন ছিলো নিজ বাড়ি

সুখের জোয়ারে

কিছুটা নিজের করে 
পাওয়ার দরবারে 
মেতেছিলো দুটি মন,

কিছু প্রেম এভাবে 
রয়ে যায় সমাপ্ত
আজ দুজনকে 
হারতে হলো সমাজের কাছে!

হারাতে হলো নিষ্পাপ বন্ধুত্ব ।

মানতে পারলো না সমাজ বুদ্ধুরাম ও পাগলীকে।
কেনো এমনটা হলো 
জবাবটা দিবে কে?
ফিরবে কি সেই ৭ মে??


মুকিম মাহমুদ মুকিত

গোরস্থান
  


এ হলো সমাধি
নতুন পাওয়া উপহার, 
জঙ্গলে পরিপূর্ণ শহর
চারপাশ ঘোর অন্ধকার। 
এরা রঙিন প্রতিবেশী
নিশ্চুপ ঘুমন্ত পাড়া,
কোন বাগানে বাঁশের বেড়া
সদ্য লাগানো চারা। 
এ শহরে যান্ত্রিকতা নেই
নেই কোন কৃত্রিমতা,
ভালো মানুষ সাজার প্রয়োজন নেই
নেই মিথ্যা আবেগিকতা। 
এ হলো নিয়তি
জানালা দরজা বিহীন ঘর,
এ শহর আপন হয়, 
যখন অন্য শহর করে পর।

মোঃ রুবেল

জীবন সংগ্রাম

অবিশ্রান্ত জীবন বহমান হিল্লোল দৌড় ঘোড়ায়।

নিবৃপিত লক্ষ্যে অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘর্ম ক্ষরিত প্রচেষ্টায় ব্যস্ত সবাই।

কোথাও সুগম ,কোথাও বা দুর্গম পথের সমাহার ।

তবু উচ্চাকাঙ্ক্ষা বুকে- করব জয় নিশ্চয় ;

সম্মুখপানে যতই  আসুক বাধা,উপদ্রব আর ভয়।

ডারউইনবাদানুযায়ী জীবনাসরে শুধু আপন অস্তিত্ব রক্ষায় প্রতিযোগিতার খেলা;

প্রস্তুতির প্রান্ত নেই, চলে প্রাত হইতে নিদ্রাহীন রাত্রি বেলা।

সংগ্রামে বিজিতরা করে চিত্ত বিলাসী নৃত্য ;

পরাভূতরা থাকে গুটিয়ে অল্প সময় নয়তো অনন্ত।

সাফল্য-ব্যর্থতা হল নৈসর্গিক নীতি;

নিবৃত্ত হবেনা কখনো তার গতি।

মনে রেখো---

ব্যর্থতায়  নয় যে শেষ;

শেষেতে থাকে শুরুটার পাদদেশ।


সামিন শুভ

বিচ্ছেদ


ব্রেকআপ দু'টি শব্দ
পাশে ডেট'টা লিখে নিও,
ধুকা দিয়েছে সে 
বলে ঘৃন্য অসৎ প্রিয়।
অপমানিত হবনা আর 
নিজেকে মানিয়ে নেব,
যদি চাওয়ার থাকে বলো
অনায়াসেই দিয়ে দেব।


মোবাইল ফোনে রেমিন্ডার-এ
ডেট'টা লিখে নিও,
প্রতি বছর ২৪'মে
যতখুশী গাল দিও।
বলো কুৎসিত মন
আমি লোচ্চা কি চরিত্রহীন 
অপবাদ নিয়েই বাচবো আমি 
কাটবে প্রহর দিন।।


অভ্রজিৎ দেবনাথ

সভ্যতা


এই পথে হেঁটে গেছে কত যাযাবর

দিগন্ত ছাড়িয়ে মরুপার মাড়িয়ে আশ্চর্য মিশর।

বালিয়াড়ির স্রোতে না জানি কোথা থেকে

উড়ে আসে এক টুকরো পাথর; পরশ পাথর!

সেই থেকে শুরু হয় বিকাশ,

অন্ধকার প্রজন্ম গুহার বাইরে এসে চোখ মেলে প্রথমবার।

আকাশে উদিত হয় রামধনু, ঝিলমিল করে চারপাশ।

তারপর বৃষ্টি আসে,

ধুয়ে নিয়ে যায় এক নিমেষে যা কিছু ছিল অর্জিত।

ভাঙ্গা-গড়া সব নিয়তির খেলা জেনেও

চাবুক দিয়ে নিজের আমিত্বকে প্রহার করি বিনা কারনে।

তখনও বসন্ত ছিল-

আমি বসন্তের গায়ে হলদে রং মাখি,

যা কিছু মহান ছিল নকল করি লুকিয়ে;

আরেকটু ভেতরে যাওয়ার বাসনা

দুনিয়ার সৃষ্টিকে গন্তব্যভ্রষ্ট করে দেয়।

আমার আমিত্বে সবকিছু জ্বলে-পুরে রাখ হয়ে যায়।

অবশেষে একদিন এই চিতাভস্ম থেকে বেরিয়ে আসে চারাগাছ;

আমি তাতে জল দিই,

আমার অলক্ষ্যে চারাগাছ ধীরে ধীরে বড় হয়ে

গড়ে তুলে সিনোজোয়িক যুগের নতুন সভ্যতা।



সোমেন চক্রবর্তী

একতারা


             
তাল কেটে যাওয়ার পরও যে গানটা গেয়ে চলেছি
সেই গান কখনো জাগরণী হয় না,
একথা বলে কোরাসের সব শিল্পীরা 
আমার হাতে একতারা ধরিয়ে চলে গেছে বহুদূরে

আজকাল তাই একা একাই বেরিয়ে পড়ি রাস্তায়
বকুল ফুলের বাহানায় ঝরে পড়া গানের কলি খুঁজি 
নির্ভুল হবার মহড়া করি প্রতিটি কেটে যাওয়া তালের ফিকে রঙে

নিজের ভিতরের সব অস্থি মজ্জা ঝেড়ে চৌরাস্তার লাইটপোস্টের নিচে
লাউয়ের শুকনো খোলের মতো পড়ে থাকি  
কোনো এক তৃষ্ণার্ত বাউলের অপেক্ষায়।


উৎপল দেবনাথ

হাজার বছর পুরোনো


 হাজার বছর পুরোনো নীল রঙকে খোঁজি

রোদের গায়ে গা ঘেঁষে 

তপ্ত আগুন পুরে দগ্ধ হয়ে

আমি ম্লান,কিন্তু শরীরটা বেঁচে আছে।

হাজারও বছরের পথ বাকি

কিন্তু যাবো কোথায়?

তাও জানা নেই, তোমাকে ছুঁয়েছি কিনা

রঙবে রঙের কত রঙ আজ ধরা দেয়

তাতে ছুঁই কিন্তু স্বাদে অতৃপ্ত 

পুরোনো সেই নীল রঙের ভাবনা এখন নিজেকে অস্থির করে তোলে।

পাহাড়ের  গা বেয়ে চুঁয়ে পরা ঝরনা 

সাদর আমন্ত্রণ নিয়ে আসে।

আমি যাই অঙ্গবিহীন স্বাদ নিয়ে আসি।

পথটা জানা নেই, নিরুদ্দেশ

সেই রাজ আমলের রাজ্যে নাচনাওয়ালি ঘরে, ভোর বিছানায় উঠে

আবার সেই পথের খোঁজ।


হারাধন বৈরাগী

হারাধন বৈরাগী


                       

 

কৃষ্ণগহ্বরে

   
 পড়ন্ত রোদ।নবীনছড়ার বুক চিড়ে আসামআগরতলা লাইফলাইন ডোরাকাটা অজগরের মতো  শুয়ে আছে।পাশে গ্রামসেবককেন্দ্রের বারান্দায় একটা চেয়ারে পাঁচের মতো বসে আছে গৌতম।এই কেন্দ্রে বিএলডাব্লিউ সে। মোবাইলে একটি কন্ঠ বেজে উঠেছে, - আমি অন্ত:স্বত্তা- - - সব পাকা করে রেখেছি। কালই  আমাকে - - অন্যতায় মহিলাকমিশন--।গৌতমের ত্রিভুবনে সুনামী উঠেছে।সে এখন কাকে কী বলবে? স্ত্রী স্বেতা ও আত্মজ কৌস্তুবের মুখোমুখি কি করে দাড়াবে? আত্মহনন ছাড়া তার সামনে আর কোন পথ খোলা নেই।জয়পরাজয় নয়, মাথার ভেতর গুমড়ে ওঠছে কালনিশিডাক।

               হাতের মোবাইলটা ঢিল মারে জাতীয় সড়কে। আগরতলা থেকে গৌহাটিগামী সেকেন্ড-এসকর্টের যমদুতগুলো তার বিগড়ে যাওয়া মগজে  গনধোলাই দিতে দিতে ছুটে চলেছে কামরূপের দিকে। স্বেতা, কৌস্তব-ওরা যেন এই মুহূর্তে মঙ্গলের অধিবাসী।ইচ্ছে করলেও তাদের কাছে যাওয়া যাবে না।আঙুলের ডগা থেকে একটা তীব্র যন্ত্রণা উপরের দিকে ওঠে মাথা অবধি - - হুল ফুটাচ্ছে।

 

       মনে আছে স্বেতার সাথে বিয়ের পর ফিরাযাত্রায় ‘গৌতমের সাথে দেখা হয়েছিল তার  তুতোশালিকা এনার্জির সাথে।প্রথম দর্শনেই এনার্জি গৌতমকে খুব কাছে টেনে নিযেছিলো়।রাতে সে গৌতমের সাথে শুতে গিয়ে স্বেতাকে বলেছিলো-দিদি ওখানে শুলে জামাইবাবু ডিসটার্ব করবে নাতো? স্বেতাও রহস্যময়ীর মতো বলেছিলো-একদিন না হয় ডিসটার্ব করেই ফেললো! আর কোন কথাই বলেনি এনার্জি ।বিছানায় শুয়েই লেপের নীচে গৌতমকে জড়িয়ে ধরেছিলো।একটি পা তুলে দিয়েছিল তার প্রোস্টেটের উপর।রাতে এনার্জিকে ডিসটার্ব নয়, এনার্জির ডিসটার্বেই সারারাত ঘুমোতে পারেনি সে। তারপর দেও ছুড়ি লঙ্গাই বেয়ে অনেকজল গড়িয়ে গেছে ---।

          নারীনেত্রী এনার্জির সাথে ঘটনাচক্রে ফের দেখা - দামছড়াতে।আর সেদিনই বাইকে চেপে দশরথদেব সেতু পেরিয়ে তারা হারিয়ে গেল - - কানমুনের উদোমপ্রকৃতির কোলে। ।এনার্জির এনলার্জবাহু সেদিন উপেক্ষা করতে পারেনি গৌতম।তার মাঝে এমন একটা আদিম উচ্ছাস ছিল যা স্বেতার ছিল না।শরীরি বিভঙ্গে এনার্জি যেন  আগুনের গোলা।সোনামী উঠে আসলো জংগলের গভীরে।পুরোটা সময় তার মাথার ফুসেওঠা চুলগুলি টেনেহিঁচড়ে দিতে হয়েছিল গৌতমকে! এরপর মাসতিনেক কেটে গেছে ,আর দেখা হয়নি এনার্জির সাথে।অনেক কল এসেছে।কোন না কোন ছুতো‌য় সে এড়িয়ে গেছে।

       গৌতম বুঝেছে এনার্জির সাথে আর দেখা করা ঠিক হবে না।  স্বেতা বোন হলেও এনার্জি তাকে সহ্য করতে পারছে না। ।সেদিন উদোমবাহু এনলার্জ করে লালাভ চোখ তুলে বলেছিলো তাকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবেনা।যে করেই হোক একটা বিহিত করতে।স্বেতার প্রসঙ্গ তুলতেই বলেছিল,তোমার আমার মাঝে আর কোন উপস্থিতি আমার পছন্দ নয়, কথাটা মনে থাকে যেন! এরপর থেকে এনার্জির ডাকে আর সাড়া দিতে সাহস করেনি গৌতম।

 আগামীকাল রোববার।বাড়ি যাবার কথা।গৌতম কি বাড়ি যাবে? নিজেকে এই মুহূর্তে প্রেতাত্মা ছাড়া কিছুই মনে হচ্ছে না।মনে হলো তার শরীরটা হালকা হয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাতাসে উড়ছে।কোথাও ভর মিলছে না।মনে হল যেন গাড়ি চলছে।হেডলাইটের তীর্যকআলো একটার পর একটা অন্ধকারপর্দা ভেদ করে ঢুকে যাচ্ছে ভেতরে ।মাথাটা ভীষণ ভারী। দমবন্ধ হয়ে আসছে।পৃথিবী থেকে মেঘ উবে যাচ্ছে।বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আশমানজমিন খাঁ খাঁ করছে। তার অন্তিমযাত্রা যেন মহাকাশের কোন কৃষ্ণগহ্বরের দিকে।যেখানে গেলে আর কিছু থাকবে না,স্থানকাল আবৃত হয়ে হারিয়ে যাবে।

 সহসা সম্বিত ফিরে এসেছে।কে যেন ভেতর থেকে কানের কাছে বারবার ফিস ফিস করে বলছে, আত্মহনন নয়, আত্মনিবেদন ছাড়া তোর কাছে আর কোন পথ খোলা নেই।তুই বাড়ি ফিরে যা। একমাত্র শ্বেতাই পারবে এই চরমসন্ধিক্ষণে কৃষ্ণগহ্বরের পথ থেকে তোকে ফিরিয়ে এনে এই নীলগ্রহের ধূলিতে বৃষ্টির আঘ্রাণ দিতে।

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...