Saturday, June 9, 2018

শেখ সামসুল হক

পরিপূর্ণ তুমি

ডুবে যাচ্ছি নাতো, ঠাঁই কোথায় ? দূরে না কাছে
ময়ূর পঙ্খী নাও, ভীষণ দুলছে
দুঘন্টি পালে দমকা হাওয়া খেলছে দারুণ খেলা
এরপর আরো আছে ঢেউয়ের মাতলামী

ঠাঁই কি নেই তাহলে আজকে আমার
আপৎকালীন আশ্রয়ের পারাপারে
আপন বলতে এক নাম জানি সে আর কেউ নয়
আশায় ভালোবাসায় সেতো তুমি
তুমি ছাড়া এ দুর্মর ক্ষণে কারো কথা কোন স্মৃতি
মনোভূমি আলোকিত করার সাহস করেনি

ডুবে যাচ্ছি নাতো ঠাঁই কোথায় দূরে না সুদূরে
মনপবনের নাও ভীষণ দুলছে হালে
পানি নেই নেই

তুফানী হাওয়া যা খুশী তাই বলছে
ঢেউয়ের দাপট বাড়ন্ত লাউয়ের ডগায় সুন্দরী ফণা তুলে
আপন পর ভুলে হানছে আঘাত
তবে কি কোথাও যাবার নেই কিছুই পাবার নেই
অভীরু মনোপ্রাণ ছুঁই ছুঁই করছে ভয়ের আকাশ

চেনা জানা কেউ নেই ধারে কাছে
অবসাদ আর ক্লান্তির কাটাতারে
জড়িয়ে যাচ্ছি কেবল
দশদিক থেকে ঘিরে ফেলছে গোলাপ বাগান
কোথায় তুমি নিশিভোর স্বাগত সূর্যমুখী
উদ্ধার করো ডুবে যাচ্ছি হে বিপত্তরাণেষু
চাঁদ ডুবলে ওঠে আসে রোদে ভাজা
কড় কড়ে সূর্য
আমি ডুবলে ওঠে এসো তরতাজা পরিপূর্ণ তুমি।


(মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ)

হাসিনা মতীন

তোমার হৃদয়ে ভালোবাসা

তোমার হৃদয়ে আমার জন্য
ভালোবাসা আগুন রঙের যন্ত্রে
চোখের কোণে শিরায় শিরায়
ইচ্ছা কত জন্মায় হৃদয়ের মন্ত্রে

খুলে দাও হৃদয়ের কপাট
দেখুক তবে ইচ্ছে আকাশ
মেলে ধরো আলোয় আলোয়
জেগে থাকুক ভালোয় ভালোয়

আকাশে বাতাসে সবুজে
দূর হতে দূরে হৃদয়ের পলকে অবুজে
মনের দুয়ারে মাথার মুকুটে
ভালোবাসার উত্তাপে বাঁশি

করতল জুড়ে লিখো তবে
ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি!
শুধু তোমাকে ভালোবাসি।

(বনানী, ঢাকা, বাংলাদেশ)

পূজা মজুমদার

একা বোকা

হিজলের ছায়া ওড়ে
বহেড়ার ফল পেকে এলো
ছেলেবেলা, ও আমার ছেলেবেলা!
তুমি আজ কার সাথে খেলো?

সরিষা হলুদনদী ঢেউ তোলে মাঘঘেঁষা হাওয়া
সে এক করোটি আছে, স্বপ্নের চাঁদ আধ-খাওয়া
রাতচেরা বৈঠায় নৈাকারা জলসুর তোলে
এ প্রশ্ন গৌণ নয় কে রেখেছে!
কে কতোটা ভোলে?
লাটিমের ছেঁড়া সুতো
চুপচাপ মার্বেলও এক কোণে
এখনও জলের নদী
ফেরার উলেই দিন বোনে
নিথুয়া দুপুর চিরে ঝিঁঝিরা কি ডাকে আজও মা?
চর্চিত গোরা হাত
যতো দেখি, তোমার ছায়ার মতো না!
কান পাতি----
ও-বাড়ির আরতির ওলু আসে কানে।

দায় কার?
কে দিয়েছে বিষ মই!
আমার সোনালী পাকা ধানে?
নাটাইয়ের সুতো ছেঁড়ে
একরোখা হাওয়া কাটে ঘুড়ি
আমিই কি একা-পাগলী?
আমিই কি একা শুধু পুড়ি?

সোমেন চক্রবর্তী

ক্ষুধা বিশেষজ্ঞ
                    

ছোট ছেলেটা হাত পাতলে ভিক্ষা দিও না,

আমি ক্ষুধা বিশেষজ্ঞ,
আমার কথা তোমাদের বিশ্বাস করতেই হবে,

দেখো, ছেলেটা নিজের পেটের দিকে আঙুল দেখিয়ে
কেমন নিরীহের মত বোঝাতে চাইছে নিজের ক্ষুধা,
সে জানে না ক্ষুধার প্রাবল্যটা কোনদিকে বেশি,

ওকে ভিক্ষা দিও না,
বুকে হাত বুলিয়ে দাও,

নইলে সে ছেলেটাও একদিন ক্ষুধা বিশেষজ্ঞ হয়ে যাবে।

প্রসেনজিৎ দে

পিঁপড়ে

অচেনাকে চেনা, না'চেনার খোঁজে
আলোর পথ অন্ধ ।
আবেগের বশে লিখছি তবু
অপরাধ বইকি দন্ড ।।

মাইল'র পর মাইল বেয়ে
একশত করি পার,
প্রকৃতির নিয়মে সৃষ্টি সেথায়,
প্রশ্ন ওঠে কার ?

এদিক ওদিক রঙের ছটা,
দিব্বি আছি সব।
হয়তো ঢিবি ভিজছে জলে,
বুকে জড়িয়ে শব !

অস্ত যাওয়া, রাতের আকাশ
স্বপ্ন দেখে যাই ।
খুদ'র ন্যায় জন্ম তাদের,
তারা আজও অসহায় !

ইন্দ্রানী চাকলাদার

ভালোবাসতে ভালোবাসি
           

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমাকে আগলে রাখে ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমাকে অবহেলা না করে।

ভালবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমাকে ভালোবাসে ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে ওর দেওয়া নামে ডাকে ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমাকে আলতো  স্পর্শ করে ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমায় মিথ্যে না বলে ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমাকে চোখে হারায় ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
যদি সে আমাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওর পাশে থাকার সুযোগ দেয় ।

ভালোবাসতে ভালোবাসি
শুধু তোমায় ।

সুব্রত দেববর্মা

কালির রং হবে লাল

হাজার বছর ধরে
জীবনানন্দদের ভিড়ে
আমায় খুঁজে পাবে।
প্রত্যেক ভোরের সুবাসে,
স্বপ্ন আমার সঙ্গে যাবে।

আমি লাঙ্গলের ফলা হয়ে
থাকবো কৃষকের ঘামে মিশে।
আভাস পাবে আমার 
তীব্ৰ কোনো বসন্ত বাতাসে।

রিক্সাওয়ালার তর্কে মিলবে
আমার ই কত ছন্দ।
নেমেসিস এর রঙে পাবে
হাজার রকম মন্দ।

তাজা রক্ত গান মেলাবে
ব্যর্থ প্রেমের বিলাপ।
বিজ্ঞাপনের ভিড়ের চাপে
হারাবে বইয়ের গোলাপ।

তবুও প্রত্যেক গলিতে
জ্বলবে কবিদের মশাল।
লিখা হবে শক্ত হাতে
হয়ত কালির রং হবে লাল।

অভ্রজিৎ দেবনাথ

রাধাকীর্তন

নিউম্যারিক্যাল ক্লাসে ফার্স্ট হওয়াটা বড়ো নয়,
শ্রীমতির পারফিউমে সড়কবাতি ফিউজ হয়।
বিপত্তির আশঙ্কায় দুবার ভূকম্পের ট্রায়াল,
বইপোকা সুবোধের চশমায় গোলাপি এঞ্জেল।

দিগন্তের ফুজিয়ামা সরায় কুয়াশার আবেশ,
দুরন্ত মিনিবাসটা ছুটন্ত গতিতে নিরুদ্দেশ।
জিন্দগির স্পীডবোডে কত শ্রীমতিরা মৃগয়ায়,
বাহাদুর ছোকরা হাত কেটে ব্যান্ডেইড লাগায়।


মুকিম মাহমুদ মুকিত

ভোরের আহবান 

শত শত পাখির কলরবে
স্তব্ধ রাতের নিঃসঙ্গতাকে জাগরিত করে
এক চিলতে আলোকরশ্মি এসে
আগমনী বার্তা দিলো জানিয়ে
আসছে নতুন ভোর দ্বারপ্রান্তে।

ভেদ করে অন্ধকারের দেয়াল
দেখা দিলো শুভ্র সকাল।
তার উপস্থিতি বলে দিলো
ত্যাগ করো সেই রাজ্য,
যেখানে ছিলে রাত্রিকালে
কল্পলোকের অধিপতি রূপে।

যাও তবে বাস্তবে,
পূর্ণ কর সে কর্তব্য
গততে যা ছিল অপূর্ণরূপে।
হানা দাও দিনের রাজ্যে
বুঝে নিতে তোমার প্রাপ্য।

মনুষ্য জাতি তুমি, সৃষ্টির সেরা
তবে কেন ঘুমে আহত !
ভোর এসেছে জানাতে তোমায় স্বাগত।
দখল কর তব তোমার অংশ
যা দেবে তোমায় আবার
নতুন রাত্রি উপহার,
আর প্রেরণা, নতুন কিছু পাবার। 

সামিন শুভ

মন খারাপ 

মনটা ভালো থাকেনা
আপন মানুষ গুলোই
কেমন বে-আপন,
তখন, মনটা ভালো থাকেনা।

হু হু করে রিদয় নীড়ে
চোঁখের কোনে অস্ফুট অশ্রু,
ভাই,বাবা-মা যখন খুঁজেনা
তখন,মনটা ভালো থাকেনা।

ভীষণ রকম যেন অন্ধকার
কালো অমাবস্যার বলয়,
চারদিক যেন ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে
ব্যাথার পাহাড়ে নামছে প্রলয়।

ভীষণ একাকিত্বে তখন আমি
গভীর থেকে আরও গভীরে
ডুবে যাই-----------
ঠোঁট দুটি নিরব কেঁপে বাঁকা
 স্তম্ভিত ভূবণ কেমন
 উদাসীন অস্ত যায়।

পরিশ্রমে দেহ কালো হউক
চোঁখের কোনে কালো দাগ
দেহ হউক কাঠি কাঠি
তবুও মনটা ভালো হউক
আপনজনদের পাশে নিয়ে
হাঁসুক দাঁতের কপাটি।

প্রণজিৎ দত্ত 

মা

মায়ের মতন এমন আপন এ জগতে নাই,
মায়ের হাতের এমন আদর কোথাও না পাই।

বহু কাল বুকে ধরে,
কত কষ্টে সন্তানেরে,
করে মানুষ,স্নেহসুধা করে বিতরণ।
এমন স্নেহময়ী পাবি কোথা মায়ের মতন?

মায়ের স্নেহে জুড়ায় প্রাণ,
ক্লেশের হয় অবসান।
অমৃতের ভান্ডার আমি মায়ের হাতেই পাই।
এমন মায়ের চরণেতে মিলে যেন ঠাই।।

নিজের আরাম ত্যাগ করে,
সন্তানেরে যত্ন করে।
মায়ের কোমল অন্তরেতে দূঃখ দেবে যেই জনে,
নরাধম বলিয়া সবে জানো সর্বজনে। 

সন্তানের হাসি দেখলে,
মা,তার দূঃখ যায় ভুলে।
কভু এই মায়ের সন্তান যদি দোষ করে,
হাসিমুখে করে ক্ষমা তাঁর সন্তানেরে। 

অবহেলা করলে মাকে,
ঈশ্বর মোদের ফেলবে পাকে।
পড়ে অঘোর বিপাকেতে কাঁদতে হবে মোদের,
শেষ সীমা তো যায় না খোঁজা এমন দূঃখ ভোগের। 



অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...