Thursday, June 29, 2023

অমিত কুমার নাথ

রুদ্র আর নেই
.
রুদ্র শুধু ভালোবেসেছিল আকাশ সমুদ্র এক করে,
তবে কাকে, 
সে কোন ঝিনুক নয়,
লবনাক্ত জলের সাথে তার প্রেমের সখ্যতা গড়ে উঠেনি কখনো,
নিজকে নিজে জিজ্ঞেস করলে আজ আর কোন উত্তর আসেনা প্রান্ত থেকে।
সে আবেশ কেটে গেছে, ভরে গেছে কাঁটা ঝোপঝাড়ে,
রুদ্র বেদুইন হয়ে ঘুরছে অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের দিকে,
মিথ্যে এই জীবনের সংলাপ বয়ে আনে মরুঝড়।
ভালো আছে তারাই যারা কফিনে রঙ মাখতো,
এতোবার উল্টেপাল্টে ঠিকুজি যাচাই সবই মিথ্যে
হাতের আঁকিবুঁকি আঁকা আর জীবনের বেনামি গলিপথ সম্পূর্ণ ভিন্ন, 
আজ রুদ্রের কোন আকাশ নেই, নেই কোন সমুদ্র 
শুধু আছে একটা পাহাড়...
একটা নাম কতটুকু আর নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারে,
সে তো কোপারনিকাস নয়, নয় সে কলম্বাস
সব আবিষ্কার মিথ্যে করে রুদ্র জেগে থাকবে
এক বেনামি ইতিহাস হয়ে...

মাধুরী সরকার

তুমি আমি মিলে

আমার এলো চুলের ভাঁজে সেদিন 
তুমি উপলব্ধি করেছো এ প্রেম মোহের নয়,
এ প্রেম আবেগের।
আমার মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিলে একটু একটু করে,
অনন্তের পথে ভাবিকালের অঙ্গীকারে। 

অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আমরা
অতিক্রম করে এসেছি অনেকটা পথ,
এভাবেই হেঁটে যেতে পারবো অন্তিম পা অব্দি 
এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। 

সেদিনের সূর্যোদয়ে সবুজঘাসে শিশিরের ছোঁয়া জানে
বিন্দু বিন্দু করে কতটা সোহাগ ঢেলেছে 
আমাদের নির্জন সবুজ গালিচায়।

এ পথ পাড়ি দিতে চাই তুমি আমি মিলে
 জীবনের অন্তিম মুহুর্ত পর্যন্ত। 

এ শুধু কথার কথা নয়,
এ প্রেমে একদিন রচিত হবে প্রেমের মহাকাব্য।

প্রতীচি ভৌমিক

আমার বর্ষা প্রেমে অপ্রেমে

আমার বর্ষা আসে কবিতায় গানে
বৃষ্টির ধারায় নামে প্লাবন--কবিতায় বন্যা 
বিরহী বিষম জ্বালায় মিলন মধু প্রাণে।

বর্ষার মেঘের ঘোরতর স্পর্ধা-- লুকায় সূর্য।
তোমার আধা ঢাকা মুখ 
এক ফালি হাসি মিলায়  পুবাকাশে--
অন্ধকারে হারাও তুমি অন্তস্থলে জেগে।
শুধু তোমার গায়ের গন্ধ আসে চাঁপার তীব্র সুবাসে।

বর্ষা মানে কদম ফুল তোমারই জন্য।
বর্ষা মানেই হঠাৎ ছোটবেলা,,,,
ঘরের ভেতর থেকে আকাশ দেখা 
চাঁদনী রাতের অবসান,
ঘরের মেঝেয় পাতা কলস
স্থান চ্যুতির ভয়, কিছু ব্যথা কিছু ভালোবাসা,
কিছু বা আধভেজা রাত।

বর্ষা মানেই চিতায় ঘৃতাহুতি, সোদামাটির গন্ধ 
আর জুম  পাহাড়ে মাদল,,,,,
ঘন ঘোর বাদল,,,,,

বর্ষা মানেই ঘুঙুরু পায়ে অবিরাম নৃত্য-- দুরন্ত বালিকা
বর্ষা মানেই প্রকৃতির মিলন বেলা।
জল থই থই পানা পুকুর, ব্যাঙের কনসার্ট, জোনাকি জ্বলা রাত।

বর্ষা মানে, ডিজে লাকড়ির ঘন ধোঁয়ার ঢল
মায়ের চোখে জল।
বর্ষা মানে একটি কচি মুখ ক্যানভাসে আঁকা
জামার ভেতর পুঁথিপত্র মাথায় কচুর পাতা।

ভাবতে বসে হঠাৎ প্রচন্ড ঝড়ে দমকা হাওয়ায় দরজা খুলে গেলে----- 
বর্ষা মানে উপচে পড়া জল নিয়নের বাতি,
এক ফালি আকাশ,ভেজা দাঁড় কাক দু চারটি 
আর ছোট্ট  একটি ব্যালকনি।
     
           

শুভ্রা দেব

বিদ্যাজ্যোতি
            
বাবা ডাকের দিন যে গেছে
বাংলা তাই ব্যাকডেটেড,
মাম্মী ডেডির যুগ পড়েছে
ইংরেজি হচ্ছে আপ টু ডেট।

যেমন তেমন করে ভাই 
অ, আ , ক , খ -র দিন পেরোয়,
মুখে ইংরেজি নামের বড়াই
অষ্টমেও দেখি খুশি বেজায় !

আগাছা ছাটাই বন্ধ তাই
শিক্ষা দীক্ষা লাফিয়ে বেড়ায়,
শাসন বারণের চিন্তা নাই
শ্রদ্ধাভক্তি আজ চুলোয় যায়  ।

করোনাকালীন ঘোর সূচনায়
ক্লাস চলে মুঠো পথে,
অনলাইন ক্লাসের নয়া জমানায়
ছাত্র শিক্ষক যে যার পথে।

বনেদীয়ানা হাওয়া লেগে 
বঙ্গ লেখতে অঙ্গ ফাটে ,
মধ্যবৃত্ত চলছে বেগে
বিদ্যাজ্যোতির তকমা এঁটে।

মৌসুমী রায়

রাধারাণী

অন্ধকারে ছাদের উপর
জোনাকিদের লুকোচুরি দেখতে দেখতে
ঝুপ্পুস করে বৃষ্টি এলো
ছুট্টে নীচে নেমেই তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম
বৃষ্টি নামার আগে সোহাগি ঝড়টা,
কোথায় যে হারালো? 
জানালার গরাদে মাথা রেখে মনে পড়ছে
কত সাধ ছিলো "রাধারাণী " হব
তোর দেওয়া তুলসীমালা গলায়
গ্রামের মাঠে জলে কাদায় বনবাদাড়ে
তোর পিছু পিছু যাব।
তুই আঁচল আমার ভরে দিবি
বেগুনী কচুরিপানা ফুলে
আমিও তোকে আড়াল দেবো,
আমার কোলে ক্লান্ত হয়ে শুলে।
বাজের আওয়াজ স্বপ্ন ভাঙ্গায়
কবেই দু'জন ছিটকে গেছি
তুই আমায় গেছিস কবেই ভুলে।

হরিনারায়ন সেনগুপ্ত

দেবতা করোনা আমায়

তোমাদের মহানুভবতার কাছে,
বিনম্র মিনতি আমার– 
মহিমা চন্দন লেপে , পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে,
এই অকিঞ্চন সত্ত্বা স্বরূপে
দেবত্ব করো না আরোপ।
ঢাক ঢোল কাঁসর ঘন্টা এত,
এত সম্মিলিত উচ্চকিত ধ্বনি–
কোন কোন দেবতার ,
তবুও সহজে ভাঙ্গে না ঘুম।
দেবত্বের কি অদ্ভুত বিড়ম্বনা–
দীর্ঘকাল ঘুমিয়েই কাটায়।
মানুষ ধূপ পোড়ায় , ঘি জ্বালায়,
নিত্য নতুন কামনা বাসনায়–
করে রাশি রাশি কুসুম চয়ন।
কোরকের অকাল মৃত্যু হয়–
ব্যথা পায় মূর্ছা যায় ফুলেদের মা।
ঘরে ঘরে সন্তানহারা জননীর
হাহাকার শোনা যায়,
ওঠে শুধু ক্রন্দনরোল ;
দেবতারা তবু থাকে
নিস্পৃহ নির্লিপ্ত নির্বিকার।
এখন দুঃখ যন্ত্রনায় সদা কাতর
একজন দরদী মানুষ
তার চে' বহু প্রার্থিত আমার।

সুস্মিতা মহাজন

খেয়ালিপোলাও 

আলোর কাছাকাছি যেতে অনেকটা পথ বাকি,
কঠিন আঁকাবাঁকা পথ।
হারিয়ে যাওয়া প্রতিনিয়ত,
ভয় পেরিয়ে এককদম এগিয়ে। 
সহজ অধ্যায় ছেড়ে কঠোর পাঠ,
একটা পুরো বই ছাপিয়ে যাবে শেষ।
গল্পটা নিতান্তই অজানা, 
অজস্র নতুনত্বের ছোঁয়া গায়ে।
হাসতে গিয়ে নয়ন ঝরে ঝর্ণার, 
সমুদ্রে ঠিকানাহীন তার উপসংহার। 
চলতি পথে হোঁচট খেয়ে স্বপ্ন ভাঙ্গে, 
বাস্তবতায় অলীক কিছু খেয়ালিপোলাও।

চন্দন পাল

কবুলনামা

শুনেছি,
প্রীত, প্রীতমের চোখ পড়তে পারে।
পারে নারী, পুরুষেরও।
কবিতা, তুইও কি পারিস?
কখনো যদি, সামনে এসে দাঁড়াস পড়ে নিবি কি তুই! 
আমার চোখের সব আ-কথা কু-কথা?
মুখ ফোটে বলিনি যা সঙ্গীকে, তাও বুঝে যাবি?

ধুৎ তবে, সব মিছে! সব মিছে!
আমার কচুর বুদ্ধিও নেই, কখনো চোখ পড়িনি। 
যে কথাগুলো পাতায় পাতায় ফেলে এসেছি। 
সব ভুল, 
শিরোনাম ধরে ধরে তুই তুলে ধরিস না।
বিনীতই বলছি,  ব্রীড়ায় মরে যাবো---!
সত্যি । তারচে' তুই বরং ---  দূরেই থাক। 
আমি কল্পনায় বাকি বসন্ত ক'টা, চাপহীন এঁকে যাই ।

তাপস শীল

সন্তানের জন্য 


অতুল'দা  বিয়ের মাসখানেক পর সিগারেট টানতে গিয়ে বৌয়ের কাছে ধরা পরে, যদিও অভ্যাসটা অনেক আগের ছিল কিন্তু এবার হাতে -নাতে। সিগারেট নিয়ে  অতুল'দার বৌ তাঁর উপর  দু'তিন দিন ধরে মনমালিন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতুল'দার  মা - বাবা ও অতুল'দাকে সিগারেট টানা নিয়ে  বকাবকি করলে অতুল'দা  স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি সিগারেট ছাড়তে পারবে না।

বিয়ের  বছর চারেক পর অতুল'দা অফিস থেকে আসার পর তার মেয়ে ফুচকি কে যখন কোলে নিয়ে আদর করে ঠিক তখন ফুচকি বলে বাবা তোমার মুখে সিগারেটের গন্ধ।  এই গন্ধটা আমার একদম ভালো লাগে না বাবা। তখন অতুল'দার হৃদয় মায়াবী হয়ে মেয়েকে কোল থেকে নামিয়ে সিগারেটের প্যাকেট টা হাতে নিয়ে  বাইরে ডাস্টবিন্টে ফেলে দেয় এবং মনে মনে বলে  যে অভ্যাসটা আমার মা-বাবা,এমনকি তোর মা পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারেনি আজ তোর এক কথায় চিরোদিনের জন্য সিগারেট ছেড়ে দিলাম ফুচকি।

রুপন সূত্রধর

পরমহংস

পরমহংস নমঃ নমঃ
তব আলোকে 
আলোকিত জগৎ। 

তব আগমন ধরা বুকে
নতুন দিশায়
ধর্মের আলোঘর। 

প্রান বাঁচে,নয়ন জুড়ায় 
তব ছবিপটে
আলোক জীবন।

সরল কথা, জীবন সুধায়
ভুবন মোহিত 
জগৎ সংসার।

ধর্মের বিস্তার, সারথি বিবেক,
জয়গান রচিত
কলির অবতারে।

অভীককুমার দে

জীবনের জন্য 

আমার কোনও গন্তব্য নেই
কেবল আছে অভিমুখ, 

মাটি থেকে পা 
উপরে ওঠানোর জন্য
সঞ্চয় করি একাগ্রতা;

এক পা শূন্যে উঠে এলে
অপর পায়ের কাছে জীবনের বিশ্বাস 
শ্বাসটুকু চেয়ে নিই শূন্য থেকে।

পা যদি পুনরায় নেমে আসে
অন্তহীন পথের পথিক আমি,

যেতে চাই প্রকৃতির কাছে।

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...