Tuesday, August 31, 2021

টিটু বনিক

অদৃশ্য প্রেম 

শরীরের বাহিরে যে প্রেম থাকে ,
যাহার দ্বারা আমি সম্মোহিত হয়।
হৃদয়ের বন্ধন যেখানে বিচ্ছিন্ন হয় না
সতত জীবিত চিরসবুজ বৃক্ষের মত।
অনিলের মত শুধু অনুভূতিতে যে,
শরীর যার বিহীন অসহায়,
জ‍্যোৎস্না হয়ে সরণি দেখায় যে
অনুভবে সতেজ থাকে সে নিত‍্য ।
চিরকাল হতে যে জীবিত থাকে,
প্রদ্বীপের মতো যে জ্বলে আছে,
আকাশের মত যে অস্পৃশ‍্য,
অক্ষিতে যার মূল্যহীন,স্পর্শে সে শূন্য।
ঝড়ে যাওয়া শরীর যার খাদ্য নই,
জীবন-মৃত‍্যুর আবাস যার শুধু চিত্ত।

নেহা মজুমদার

হায় রে মেয়ে


হায় রে মেয়ে কেন এলি তুই এ ভুবনে?
নিজের ইচ্ছার কোন দাম নেই যে তোর জীবনে!
পরের তরে নিজের জীবন করলি যে তুই দান
তবু কেন সমাজ তোকে করে না সম্মান?
তোকে দেবীরুপে পুজি তুই মাসিকে অশুচি..
তোর রুপের আগুনে আবার পাল্টে যায় রুচি
আপন কর্মে হলে ক্ষতি নিজেই করলি র্সবনাশ
পরকর্মে হলে দুর্গতি এ তোর ভাগ‍্যের পরিহাস..
কোথাও দেখি কুমারি পূজো দুর্গা পূজোয় গিয়ে
কোথাও দেখি নাবালিকার দিয়ে দিচ্ছে বিয়ে 
কোথাও আছে কাল্পনা চাউলা হয়ে দেশের গর্ব
প্রিয়াঙ্কা রেড্ডি আবার দেশের কলঙ্কের এক পর্ব!
নীরজা যখন শিশুকে বাঁচাতে নিজের দিল বলি..
চলুন না আমরাও তাদের মতো পথ ধরে চলি
কন্যা সন্তান যদি হয় পরিবারের বোঝা 
পৃথিবীতে পুরুষের বেঁচে থাকা হবে না অতো সোজা।

অভিজিৎ রায়

বেকার ছেলে
               
আমরা হলাম বেকার ছেলে
বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি হিংসা বিভেদ ভুলে

সমাজের চুখে আমরা নাকি নিষ্কর্মা
কিন্তু আমরা জানি আমরা  এক একটা বিশ্বকর্মা

চাকরি পেলেই নাকি স্ব-রোজগারি
আমরা নাকি বাবা মায়ের কোষাগার খালি করি

আমরা পারি না কোন ভালো কাপড় পড়তে
পড়তে হয় ছিড়া জামা কাপড়  মানুষের নানাহ অজুহাতে

ভালো কাজ করলেও সবাই বলে এটা আমরাও পারি
খারাপ কাজেও আমাদের নাকি অনেক পাল্লা ভারি


বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ালে বলে সবাই এসব নমুনা
দুর্দিনে পাশ কাটিয়ে গেলে সবাই বলে ওদের থেকে এটাই পাওনা

আগে গেলেও সমস্যা মোদের পিছনে নেই কোন ঠাই
বেকার বলে নেই কোন দাম কপালটা মোদের পুড়ে ছাই

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী

রাধিকার সন                      
                                      
বাজে শ্যামের বাঁশি বৃন্দাবনে
 সুরের সুধা হাওয়ায় ভাসে,
 গোপিনীর দলে ঘুম ভেঙে যায়
 প্রাণ ভরে যায় কানহার বেশে।

রাধার চোখে প্রেম আভূষণ
 ওরে শোন রে সখি বাঁশির বাদন,
 কৃষ্ণ শুধায় কোথায় প্রিয়ে?
 ওই স্নিগ্ধ বদন বিমল শোভন।

ব্রজের বালক রাখাল কানহা
 নন্দ দুলাল চক্রপাণি,
দোলের ক্ষণে রঙের মেলায়
 কৃষ্ণ সাজে রাধারানী।

রাখাল গড়ে রাসের কুঞ্জ
 অমৃত সুধা ঢেলে,
 গোপিনীর মনে রাধিকার সনে
 প্রেমের খেলা খেলে।

ফুলের ভিড়ে কুঞ্জে কুঞ্জে
 ইন্দু রাশি মাখায় আলো,
 বংশীধারী বংশী হাতে
 ধরার মাঝে প্রেম জাগালো।

মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

ধৃষ্টতা

যদি আকাশ হতেম
ভালোবাসার রামধনু ছড়িয়ে
রাঙ্গাতাম  প্রেমরঙ্গে।

যদি সূর্য হতেম
দীপ্ত আভায় ভরিয়ে
জ্বালাতাম বোধের বহ্নিশিখা।

হতেম যদি অংশুমালী
আলোর সিত ধারায়
ভরিয়ে দিতাম ধরনী।

যদি মুক্ত খেচর হতেম
আপন হরষে উড়তাম নভমাঝে,
সোহাগী কন্ঠে গাইতাম প্রেমগান।

যদি হতেম রিমঝিম বৃষ্টি,
শান্ত বরিষণে সকল দৈন‍্যতা
ঘুচিয়ে, শান্তির উড়ুপ বাইতাম।

হতেম যদি স্রোতস্বতী নদী,
উন্মুক্ত কবরীর শীতল প্রবহণে
সকল পাপাচার ভাসিয়ে দিতাম।

যদি মারুত হতাম,
উদাসীনতার বিসর্জনে
শুদ্ধতার বীনা বাজাতাম।

কিন্তু আমি কেবলই দ্বিপদী,
বিবেকের উদারতা ক্ষয়িষ্ণু,
ঘুনেভরা চেতনায়; আমিত্বের ধৃষ্টতা।

প্রীতম শীল

রক্তাক্ত স্বাধীনতা

অর্জিত স্বাধীনতার বস্ত্র খুলে,
উলঙ্গ করেছো যখন।
আমার দুচোখ দিয়ে অশ্রু জল,
গড়িয়ে পড়ছিলো তখন।
ধর্ষিতা স্বাধীনতা চিৎকার দিয়ে,
পায়নি কোনো বীরত্ব।
নখের আঁচরে খামছে স্বাধীনতা,
শরীর বেয়ে পড়ছে রক্ত।
এটাই যদি তোমাদের স্বাধীনতা হয়? 
আমি তবে হবো ঝাঁসি।
বোনের নগ্ন শরীর দেখার জন্যই কী?
ক্ষুদিরামের হলো ফাঁসি?
তবে আরও একবার ভিক্ষে চাইবো,
স্বাধীন ভারতের কাছে।
যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি,
ধর্ষকের কাছে কি মিছে।
তবে আমাদের স্বাধীনতা কোথায় পাবো?
কার সাথে করে যুদ্ধ।
এমন স্বাধীনতার বাণী আমাদের,
করেনা আজ মুগ্ধ।

কৃষান নম:

আতঙ্ক
 
আবার এসেছে দেশবাসীকে, 
যন্ত্রণা ব্যথা দিতে আতঙ্কিত ভাইরাস।
আবার কিছু আতঙ্কের প্রতিশ্রুতি, 
আমাদের সেই স্বপ্নভঙ্গ। 
আবার মাঝরাতে অ্যাম্বুলেন্স আওয়াজ, 
ডাক্তারদের বিরক্তের চাবিকাঠি।
সমাজটা সভ্যতার মতো এগিয়ে চলছিল, 
তখনি আতঙ্কের দালাল এসে জগৎকে বিকরে দিলও।
অস্বস্তি কর, যন্ত্রণার পৃথিবীর বুকে অন্ধকার করে আনে, 
রং মাখা আনন্দ উল্লাস গলি গুলিতে।
নিয়ে আসে এক আতঙ্কের ছায়াযুদ্ধ, 
একটি প্লাস্টিক মোরানো লাসের গোপন গুহা।
সেখানে শুধু শোনা যায় অচল শরীরে নিঃশব্দ গজনের, 
শুধুই চারদিকে আতঙ্ক আতঙ্ক।

প্রণব দাস

নেতা হবো

ছোটবেলায় মা বলতো,
পড়াশোনায় যাচ্ছেতা,হবিটা কি তুই? 
বোয়াল দেখলে কাতলা বলিস আর ইলিশ দেখলে রুই!
হেসে মেসে বললাম শেষে,চয়েস আমার এক,আশা ডজনখানেক।
দারুণ হেসে মা বললো,বল বল বল শুনি তবে কি? 
বুক চাপড়ে বলে দিলাম
নেইযে কোনো ভীতি,করবো রাজনীতি
নেতা হয়ে ঘুরবো আমি,দেখাবো প্রেম প্রীতি।
অবাক হয়ে বলল মা,তুই হবি নেতা!
শেষে জুটবে না তোর 'খ্যাতা'।
হাহা করে বললাম আমি,চিন্তা নেই মা 
হবে গাড়ি হবে বাড়ি, চশমা চোখে চুল দাড়ি,
পাঞ্জাবিটা থাকবে পড়া,দামী কোর্ট আর চটি জোড়া,
এদিক সেদিক থাকবে টাকা,লাইফটা হবে ঝাকানাকা,
করুন কন্ঠে বলল মা সহজ নয়রে বেটা
ক্ষমতা তোর থাকবে কদ্দিন,কঠিন ব্যাপার সেটা,
চুপি চুপি বললাম হেসে,আদর্শটা ডুবুক গিয়ে
মন্দ কি আর তবে ?
এদল ওদল বদলে নেবো,
তবুও নেতা আমি হব।

বিনয় শীল

মিথ্যে মুখ

কাজল
সজল
জয়নাল ফজল,
গো বেচারায় মিশে ।
আলিম
জালিম
মঈদুল হালিম,
ওরা বা কম কিসে !

সরল
তরল
গুপ্ত গরল,
মিথ্যে শব্দ চাষী ।
লেখক
শেখক
নৈশ পেঁচক,
ভয় ভীতিকর হাসি ।

মালা
ঝোলা
তিলক তোলা,
মুখে সদাচার ।
হরি
হরি
আহা মরি,
কতো কদাচার ।

চিল্লা
চিল্লা
হামদুলিল্লা,
ওয়াজ মাহফিলে ।
ঘেউ
ঘেউ
বিষের ঢেউ,
মুমিন হুজুর মিলে ।

কথায়
কথায়
তোর কবিতায়,
মানবতার মলম ।
আবুল
বাবুল
কান্দে কাবুল
চুপ কেন তোর কলম !

দিপ্সি দে

তবুও প্রেম

প্রতিটি অন্ধকারে তোমাকে অনুভব করি শূন‍্যের শেষ বিকেলে হতাশা নিয়ে হাঁপিয়ে উঠে শহর
 
জলমগ্ন ছাঁদে হাটুগেরে বসে দেখেছি একটুকরো মেঘ বৃষ্টিকে ছুঁয়ে আদর করে পাশ কেটে চলেছে,

সমুদ্রমন্থনে হিমালয় অভিযানে তুমি আমি পাশাপাশি হেটে যায় বিশ্রামাগারের খোঁজে।

কখনও মেঘ কখনও বসন্ত কৃষ্ণচূরা গাছ অভিযোগ  নিয়ে দাড়িয়ে থাকে,
এ শহর প্রেম বুঝে না!
প্রেম যে প্রেম! খোলা আকাশ বারন্ত শরীরের লাবণ‍্য,
তা ভুলে গেছে উতলা কৃষ্ণচূড়া।
শেষ বিকেলে সে ডাস্টবিনে অযথা সময় নষ্ট করে 
খুচরো ভালোবাসার সন্ধানে ।

অভীককুমার দে

এক্কই তালে 

ছা-র, ও ছা-র...
যেন্নে যেন্নে শিকাই দিছেন
আন্ডাঅ চিল্লাইছি গলা হাডাই
ব্যেকে মিলি এক্কই তালে, 

নঅ বুজি
নঅ হুনি
নঅ জানি
চিল্লাইতে কন হোয়াদ ?
আগে যেই হরেঅ হেই 
আজাইর্গ্যা হরিশ্রম...

আরিগ্গা চলকেট দেন থাইকলে, 
মিডা কম অইলেই অইবো; 

চুইতাম... 

আগেরগুন চুইতে চুইতে
এক্কারে মিডা অই গেছিগোই; 

হিম্বায় ধরের অন !

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...