Wednesday, May 8, 2019

বিজন বোস

মানবজমিন

মানবজমিন পড়ে আছে নেই চাষবাস
আছে ধিক্কার নিন্দা শ্লোগান --মুর্দাবাদ ,
ক্রুঢ়তা হিংসা বিদ্বেষ  সন্দিহান
হৃদয়ে গহনে উড়ে অবিশ্বাসী নিশান ।
ধ্বংসাত্মক বাক্য অনাবাদের ফল
পতিত কলুষিত সার-বীজ স্নিগ্ধ শীতল জল।
প্রগাঢ় আঁধার ভয়ার্ত বিনিদ্র রজনী
জগদ্দল পাথরে ঠাসা একদা সমৃদ্ধির জমি ,
অবিচার অনাচার ব্যভিচার উত্পীড়ন ধ্বনি
হাহাকার হাস্যোল্লাস শুনায় উদ্ভট বাণী ।
মৃত্যুদূত ক্ষণে ক্ষণে দাপিয়ে বেড়ায়
তবু বাঁচার আশা উঁকি মারে মনের কোনায় ।

পৌলমী সাহা

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ


সাদা কাগজে কালো কালিতে,

লিখেছো অনেক ছন্দ আর গীতি।

বাস্তবতা আর সকলের মনের কথা,

তোমার লেখায় হয়েছে সম্মুখীন।

আলো আঁধারে আনন্দ বিপ্লবে,

তোমার লেখা তোমার গীতি,

বহন করেছে যুগ যুগান্তর হতে,

অনেক অনুভূতি অনেক স্মৃতি।

দেশের জন্য  উজাড়  হতে,

সত্যের জন্য লড়াই করতে।

এবং ভালোবাসার জন্য উদার থেকে,

প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হতে!

সেকথা তুমি  বর্ণন করেছো,

তোমার প্রতিটি লেখনিতে।

কলম রূপী তলোয়ার,

বর্তমান যুগে বহু মূল্যবান।

নবীন  প্রয়াসের কাছে,

তা জানান দিতে তোমাকে ,

আবারো দরকার।

কারণ তুমি সেই অনন্য বিশ্বকবি,

আমাদের সকলের প্রিয় মননের রবি।


প্রীতম শীল

আনন্দের জায়গা এখানে

হারিয়ে গেছে জীবনের ছন্দ।
বুঝি না আর ভালো মন্দ। 
চারদিকে শুধু বিষাদের গন্ধ। 
মানুষে মানুষে শুধুই দ্বন্দ্ব।


দিকে দিকে শুনি ক্রন্দন। 
ভয়ে আতঙ্কে আছে মন।
পাল্টে গেছে ভাই সমাজ।
মানুষ নেইকো মানুষ আজ।


প্রতিযোগিতায় ছুটছে মানুষ। 
হারিয়ে গেছে মান আর হুশ।
সবাই বলে আমার শুধু আমার।
পৃথিবী আজ লাশের খামার।


এ এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। 
স্তব্ধ আজ রিতি নীতি।
চলছে ভাই প্রতিশোধের পালা।
পৃথিবীর পানে কঠিন জ্বালা।


জ্বলছে পৃথিবী পুরছে সবাই। 
যুদ্ধ নয় আর শান্তি চাই। 
এ সমাজ বদলে দাও। 
ভালোবাসা খুঁজে নাও। 


কমলেন্দু সেনগুপ্ত

মে দিবস

পেলব ডানার  এক সুকুমারী পাখি

গান ভাসিয়েছে ভারি বাতাসে। আজ ভোরে।
চাষি ক্ষেতে নিরেন দিয়েছে বোধহয়
মাটির বুনো গন্ধে চারপাশ ময়ময়।
লাল জবার কুঁড়ি আকাশে দিকে
হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে
যেন এক দল মেয়ে স্কুলের পোষাকে
নতুন দিনের প্রার্থনা সঙ্গীত গাইছে।

উহু! এসব বুক দিয়ে ভালো না বেসে

আমি অবশ্যই কোথাও এক পা নড়বো না
বৃষ্টি ফোঁটা আমার ঠোঁটে তৃষ্ণা পরখ করে
মরা ঘাস আমার পায়ে বিপ্লবের আকুলতা।
কেননা সময়ের আর বিশষ সময় নেই হাতে
যে আমায় আরও একবার দেখতে দেবে
মে দিবসের এই দিনটা লড়াই সংগ্রামে
ঘেমে নেয়ে বৃষ্টি স্নাত ফুল হয়ে হাসছে বিশ্বে।



বিশাল বিশ্বাস

বাবা

বাবা মানে একটি ভরসারস্হল                       খরস্রোতা নদে ঝিলমিল  জল                    বৃষ্টিস্নাত দিনে ছত্রের হাতল,                          কিংবা প্রখর রোদে ছায়াবৃত্ত অঞ্চল,,            

বাবা মানে পরিবারের সামনে হাসিমুখের আবরনে লুকিয়ে রাখা বেদনা,
নিজে সারাদিন না খেয়েও,উদরপূর্তির ফুটিয়ে তুলা বাহানা,                                               ৫টাকা বাঁচাতে দু'মাইল হাঁটা,,                   পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পূরোনো জামা-প্যান্টকেও নতুন বলে চালনা,,                         বাবা মানে অশ্রু যার ঘামে নির্যাসিত,,              শিঁকল যার আরাম-আয়সে বাঁধিত,,                   হাসি যার পরিবারের মুখে প্রস্ফুটিত,,            
বাবা মানে এক লড়াকু নেতা,,                     সংগ্রামী মেজাজী,আত্মবলিদানই যার জীবনগাঁথা!

আশিসরঞ্জন নাথ

হলদে পাখী


এসো গাঁদা ফুল

এসো চাঁপা ও শর্ষে ফুল

মন হারানো হলদে রঙের বাহারে। 
বসন্তের রঙ হলুদ
ভালবাসা ও প্রেম মাখামাখি 
মন উড়ে উড়ে বেড়ায়
কত কথা কত গান
মন জুড়ে বাউল বাতাস
একবার কে একজন বলেছিল
হলুদ নাকি সুবিধাবাদী রঙ
আমি তার মানে বুঝি নি আজও
শর্ষে,গাঁদা,চাঁপা কি তবে সুবিধাবাদী ! 
হলুদকে যে যা-ই বলুক
সে আমার প্রিয় রঙ
হলদে পাখি দেখলে আমার মন
প্রজাপতির মত উড়তে চায়
আমি হলদে পাখি হতে চাই তখন। 
হলদে পাখির ঠোঁট কিন্তু লাল
বড্ড বেশি রকমের লাল।


সুব্রত দেববর্মা

সেক্রেটারিয়েটে বসবে হাট


যেদিন সমস্ত কৃষকেরা মাঠ ছাড়বে

রওনা দেবে মহাকরণে

সেদিন হবে আসল বিপ্লব

শ্রমিকেরা সেদিন নামবে রণে।

পুঁজিপতি ইনভেস্টের 

সেদিন পাবে ভীষণ টের,

পেটে দায়ে নোট কামড়াবে

মাঠের দিকে ছুটবে ফের।

সেদিন হবে আসল বিপ্লব

কৃষকেরা যেদিন ছাড়বে মাঠ,

রাস্তার ধারে বিধানসভা

আর সেক্রেটারিয়েটে বসবে হাট।

সেদিন তুমি বুঝবে

লড়াইটা জাতের নয় ভাতের,

লড়াইটা বন্দুক আর গুলির নয়

মগজ এবং হাতের।


গোপালচন্দ্র দাস

শব্দ শিকার


মুখে লম্বা দাড়ি বিশেষজ্ঞ গবেষণা

ঘর নির্জন রাস্থায় প্রতিদিন শব্দ শিকার

পুরনো শব্দের ভিড় সবুজ মাঠে

নদী উজান বিলে ঘাতক মাছের পাখনা

পানকৌড়িরা উড়ে যায়।

শহরের ব্যস্থ বিপণী জোনাকির স্তুপ

উষ্ণ বাতাস অলস হলেই

জেগে উঠে নির্ঘুম আততায়ী

শব্দেরা মরে গেলে

আর কেউ উড়তে পারে না।


Tuesday, May 7, 2019

উমাশঙ্কর রায়

জীবন থেকে ধার নেওয়া

"কী হলো ? এমন পানসে মুখ করে বসে আছিস কেন ?!" আশেপাশে কাউকে না দেখে রণিত ঠুকলো বিজিতকে।

প্রশ্নটা শুনেই রণিতের দিক থেকে মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে বিজিত বলল, "ধুস্ , মাথাটা একেবারে বিগড়ে দিল ..."

- কে কী করল ? কী হলো আবার ?
- কী আর হবে ! যাচ্ছিলাম ঐ দিকে। শুনলাম, গলির মোড়ে একজন খুব বক্তৃতা করছেন শিক্ষা-শিক্ষক-শিক্ষাদান ইত্যাদি নিয়ে।

- তাতে তোর বিগড়ে যাবার কী হলো ? ভালোই তো হচ্ছিল। গলির মোড়ে সাধারণত এমন টপিক নিয়ে তো আলোচনা হয় না ! এগুলো তো স্কুল কলেজে হয়ে থাকে।

- তাইতো বলছি।
- তা'লে তুই বিগড়ালি কেন ? বরং বিগড়ে না গিয়ে তোর বোঝা উচিত ছিল উন্নয়ন এখন গলিমুখী। দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে।

- ঠিক। সেটাই বলছিলাম। আর বেশিদিন বাকি নেই।
- কী হবে ?
- দেখবি, কিছুদিন পরে মুদির দোকানেই প্যাকেট ভর্তি 'শিক্ষা' কিনতে পাওয়া যাচ্ছে।

- তাতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে ! তুই হয়তো বা জানিস না, মুদির দোকান না হলেও, এমন বেশ কিছু দোকান চালু আছে- যেখানে সত্যিই প্যাকেট ভর্তি 'শিক্ষা' পাওয়া যায়।

- মানে ?! এ তুই কী বলছিস ?! প্যাকেটে শিক্ষা পাওয়া যায় ?  কী রকম  ?
- মানে খুব সোজা। বলতে পারিস, মুড়ির মতন।
- মুড়ির মতন ?!
- হ্যাঁ, আরেকটু মিহি করে যদি বলি, তবে বলব, ছাতুর মতন। চিবোতেও হয় না। জাস্ট ... ডাস্ট।ডাস্ট-শিক্ষা! জল দিয়ে গুলে, গিলে ফেললেই হল।

- তাই নাকি ?!
- বিলকুল। কিন্তু সেখানে একটাই শর্ত - ফেলো কড়ি, খাও বড়ি, ধরো ছড়ি।

- বাহ্ ! কী অদ্ভুতভাবে মিলে যাচ্ছে তো ! অনেকটা তোর মতোই তিনিও বলছিলেন চেঁচিয়ে-শিক্ষাদান-
শিক্ষা ইত্যাদি নিয়ে।

- অ্যাই শোন, আমি কিন্তু চেঁচাচ্ছি না মোটেও। বরং খুব মিহি করে বলছি।

- আসলে কি জানিস, ঐ 'শিক্ষাদান' শব্দটার মধ্যেই মনে হয় কিছু একটা গন্ডগোল আছে।

- মানে ?! বুঝতে পারলাম না তোর কথা !
- আমার কী মনে হয় জানিস ? শিক্ষা, মোটেও দানের বিষয় নয়। শিক্ষা শুধুই গ্রহণের বিষয়। অর্থাৎ শিক্ষা শুধু গ্রহণযোগ্য। দানযোগ্য নয়। শিক্ষা দান করা যায় না।

- যাঃ বাবা ! এ আবার কেমন কথা ! কীসব বাজে বকছিস ?! গ্রহণ থাকলে তো - দানও থাকবে। দান ছাড়া গ্রহণ কী করে হবে ?
- না, সেটা শুধু বস্তুর ক্ষেত্রেই খাটে। শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়। তবে এটাও ঠিক যে শিক্ষা এখন বস্তুই। জাস্ট কমোডিটি । পণ্য ।

- অ্যাই দ্যাখ, তুই কিন্তু আবার বেলাইন হয়ে যাচ্ছিস।

- আমি মোটেই বে-লাইন হচ্ছি না।
- তবে এসব কী বলছিস তুই ?! যুগ যুগ ধরে শিক্ষাদান নিয়ে কত কথা হয়ে গেল। আর আজ কিনা তুই বলছিস ....

- শোন, আমি শুধু একটা সোজা কথা বলছি - মানুষের পক্ষে মানুষকে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। যদি সত্যিই সম্ভব হতো- তবে এতো যুগ পরে আমাদের এই হাল হতো না। এ নিয়ে মানুষ মানুষকে দোষারোপ করত না, আপশোসও করত না।

- মানে ? ঠিক কী বলতে চাইছিস তুই ?!

- আসলে কি জানিস, আমরা সবসময় ভুল করেই ভাবি - আমরা কিছু দিচ্ছি ... অন্যকে । এই দিচ্ছি, সেই দিচ্ছি, শিক্ষা দিচ্ছি, আরো কত কিছু দিচ্ছি - ইত্যাদি। আসলে এই ভাবনাতেই  একটা মস্ত ভুল রয়েছে।

- কেমন ? 
- হ্যাঁ । আসলে যুগ যুগ ধরে এত শিক্ষা পেয়েও আমরা এই শিক্ষায় আজও শিক্ষিত হতে পারলাম না যে - যা কিছু আমরা হাতিয়ে নিচ্ছি- নিজের মনে করে, সেগুলো কিছুই আমাদের নয়। সবই...প্রকৃতির। ......অথচ চেয়ে দ্যাখ, প্রকৃতির এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই !

- তাতে কী হলো ?! প্রকৃতির মাথা থাকলে তো- মাথা ব্যথা হবে! না কি ?

- তুই নিজেও ভালো জানিস, যে বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলছি, তাতে মাথা আর লেজের কী সম্পর্ক।

- তা বুঝলাম। কিন্তু তোর কথা মতো -শিক্ষা যদি শুধু গ্রহণ করার বিষয়ই হয়, দানের বিষয় না হয়, তবে তো শিক্ষক শব্দটার কোনো মানেই থাকে না।

- কেন থাকবে না ? আছে। অবশ্যই আছে। তিনি তো পথ দেখাবেন। কিন্তু সেই পথ চলতে গিয়ে পথিক কী দেখবেন, কী শুনবেন, কী ধরবেন, কী নেবেন, কী বুঝবেন - এসব একান্তই তার নিজের বিষয়। এটা কেউ তাকে শিখিয়ে দিতে পারে না।

- কিন্তু আজকাল তো দেখছি, যে কেউই একটা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে শিক্ষা সম্পর্কে শিক্ষাদান করতে থাকেন ! কী দিতে হবে , কীভাবে দিতে হবে , ইত্যাদি। ....এটা তবে কী ?

- শিক্ষার হদ্দমুদ্দ । শিক্ষার নাম করে কিছু পুরোনো পদ্ধতি বা ধার করা বিষয় উগলে দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। ঐ ক্ষেত্রে প্রকৃত শিক্ষার বিষয়টি অধরাই থেকে যায়। সস্তার বাজিমাত হয়। প্রকৃত - অধরাই থাকে । তাতে অবশ্য একশ্রেণির লাভই  হয়।

- তুই যে ঐ বারবার প্রকৃত-প্রকৃত বলছিস, সেটা আসলেই কী....বল দেখি।

- সেটা ....জাস্ট ইউনিক। মৌলিক, স্বতন্ত্র। এর মানে, শিক্ষাটা তখনই প্রকৃত, যখন সেটা প্রত্যেকের জন্যই স্বতন্ত্র, ভিন্নভাবে অর্থবহ।

- যাঃ বাবা ! তবে তো দেখছি,তোর কথা মতো-
এককোটি মানুষের শিক্ষার জন্য এককোটি স্কুলের দরকার !!
- মোটেও না। স্কুল দিয়ে শুধু কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি চালু হয় মাত্র। এগুলোও আবার কারো কারো নিজস্ব। এতে শিক্ষা আর কতটুকু হয় ? যদিও বা কিছু হয়- সেটা জাস্ট - সিন্ধুতে বিন্দুর মতো !

- সব গুলিয়ে যাচ্ছে। একটুখানি জল মিশিয়ে তরল করে বল না শুনি। তবে বুজতে পারব।

-অ্যাই দ্যাখ, যেখানে জল কিছুতেই মেশানো যায় না সেখানেও জল মেশাতে বলছিস !
- তবে উপায়টা কী ?

- আচ্ছা, তোর মনে আছে ? সুনির্মল বসুর সেই কবিতাটি ? "সবার আমি ছাত্র" ?
- আছে।

- স্যার কিন্তু আমাদের সেটা মুখস্থ করিয়ে শেখাননি। স্যার পড়তেন। আমরা শুনতাম। তাতে প্রতিটি শব্দ তার যথার্থ মানে নিয়ে আমাদের অনুভবে ধরা দিত। বলতে পারিস - মরমে পৌঁছে যেত।

- তাইতো ! সেটা তো শুনে শুনেই শিখেছিলাম।

- হ্যাঁ। "আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাইরে / কর্মী হবার মন্ত্র আমি বায়ুর কাছে পাইরে।"
- আবার -  "নদীর কাছে শিক্ষা পেলাম আপন বেগে চলতে।"

- দ্যাখ, এখানে ইঙ্গিত আছে, কিন্তু আদেশ নেই। বলা আছে, চলন আছে, গমন আছে, গতি আছে, আশা আছে । কিন্তু হতাশা নেই। স্বার্থপরতা নেই । কেড়ে নেওয়া নেই। ইচ্ছে পূরণের ইচ্ছে আছে। কিন্তু যাতনা নেই। শৃঙ্খলার নামে - শৃঙ্খল নেই।

- একদম। তবে কি তুই এখন ভোটাভুটি করতে যাচ্ছিস ?
- কিসের জন্য ?
- গণতন্ত্রের স্বার্থে।
- গণতন্ত্র ?!
- বাহ্ রে ! তুই কি এটাও জানিস না যে, গণতন্ত্র শব্দটা উচ্চারণ না করে এখন পিঁপড়েরাও মুখে অন্ন তোলে না ! ওদেরকেও এখন গণতন্ত্রের মানে জানতে হয়।
- এত্তসব জানি না।
- কিন্তু তোকে তো জানতে হবে। তোকে বুঝতে হবে, যেভাবে বোঝা উচিত ঠিক সেভাবে।

- শিক্ষা দিচ্ছিস ?

- আরে নাহ্ ! কিন্তু তোকে বুঝতে হবে, কোনদিকে পাল্লা ভারী - শিক্ষাদানের পক্ষে, নাকি শিক্ষাগ্রহণের পক্ষে !

- আবার ঝামেলা করছিস !

- দেখবি শিক্ষাদানের লাইনটাই বড় হয়ে গেছে। ঐখানেই ভিড় বেশি। আর অন্যপক্ষে, মানে ঐ শিক্ষাগ্রহণের লাইনে দাঁড়িয়ে তোর তখন জামানত জব্দ হবে।

- হোক জামানত জব্দ। তবুও আমি শিক্ষাগ্রহণের স্বার্থেই শিক্ষাদান নিয়ে ঘাটাঘাটি করা ছাড়ছি না।

- দেখিস ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে আবার ঘাট হয়ে যাস্ না যেন !
- কী বললি ?
- না, বলছিলাম - রবি ঠাকুরের "তোতা কাহিনী"র তোতার কথাটা মনে রাখিস। আর অনিয়ম, অনাচার আর অনাসৃষ্টির মাঝেও বেঁচে থাকার শ্বাসটুকু জিইয়ে রাখিস । নয়তো .......

- নয়তো কী ?
- নয়তো বিপদ হতে পারে।
- কেমন ?
- হয়তোবা রবিঠাকুর আবার জেগে ওঠে এসে জিগ্যেস করতে পারেন -
বলতো দেখি, আমার এই পঙতির গূঢ় অর্থটা কী ?

   " আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি
     রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি ?
     শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার
        নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।"

বিজিত খুব বিমর্ষ হয়ে রণিতের দিকে  চেয়ে বলল,
বুঝলি, দূঃখ একটাই - যখনই কোনো একটা বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে অনেক দূর এগিয়ে যাই - দেখি, গুরুদেব যেন শেষ কথাটি বলে দিয়ে চুপটি করে বসে আছেন !!

অপাংশু দেবনাথ

জলে তবু ভাসে

কখনো বাগানে ফুল ছিলনা বলেই,
প্রজাপতির অসংখ্য পাখা পড়ে আছে
সময়ের অতস-মাটিতে।
ফুল নেই একটাও তবু জল দিই
ভাবনার ঊষ্ণ-মৃত্তিকায়।

জলের নিজস্ব গন্ধ নেই,
একথা জেনেছি আমি,তোমার প্রণয়ে।

কোন্ গন্ধ মেখে প্রজাপতি ফেলে যায় পাখা?
এখন পিঁপড়েরা সেসব পাখা নেয় টেনে।
কেনো যে কষ্ট হয় এমন!
রঙীন ডানায় মানুষের ভালোবাসার মৃতগন্ধ।

বিস্তৃত বাগানে প্রতি রাতে ঘুমোবার আগে,
ভাঙা পাখাগুলো সব জড়ো করে রাখি
জল ঢালি, শুধু জল।
এতটুকু জানি জলে তবু ভাসে রোজ
অসাম্প্রদায়িক ফুল।

রণজিৎ রায়

উথ্থান পতন

উথ্থান জাগ্রত হয়ে মাথা তুলে দাঁড়ালে
পতন অপেক্ষায় প্রহর গোনে
যতই অহমিকা দাপিয়ে বেড়ায়
হৃদয়ে গুরু গুরু মেঘের গর্জন ।

পতনের বিভীষিকার বিজ্ঞপ্তি ঘোষিত হলে
উথ্থান আড়ালে লুকিয়ে থাকে
দুঃখের আগুনে যতই পুড়ে নিশ্চিহ্ন
মনে ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় সচেতন ।

উথ্থান পতনের ইতিহাস ভূগোলে অজ্ঞতা
বেহিসেবি বেপরোয়া করে তোলে
দুর্দশার রসাতলে তলিয়ে যায় জীবন

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...