Thursday, August 9, 2018

দেবদূত দে

ক্যাকটাসের কান্না


তোকে জাপটে ধরব বলে
বাসস্ট্যান্ড, জমা জল পেরিয়ে
আলগোছে গিলেছি রবীন্দ্রসংগীত।
লেবু চা, লেড়ি বিস্কুট, সব্জির গাড়ি হাঁক দিয়েছে!
তোর সানগ্লাসে রামধনু মেখেছি!

গুঁড়ো হওয়া কাঁচের ইতিহাস জমিয়েছে বাইপাসের ঝড়ো হাওয়া!
অনামি পিলার গুলো হাত বাড়ায়,পুষে রাখে ব্যর্থতা।
চারমাথার মোড়ে সাগরে দিয়েছি ডুব,তোকে নিয়ে।
বালি মাখে তোর নাভি, আমার চঞ্চল ছাতি!
ভিজে যায় জামা-প্যান্ট,লন্ডভন্ড সকাল।

কীটপতঙ্গগুলো ধর্ণা দেয়,
আমার কানের লতি জুড়ে!
মাথায় বাসা বাঁঁধে তেলচিটে উকুন।
থোকা থোকা জংলিফুলগুলো সব,
কুয়াশায় ভিজে নিঃশ্বাস নেয়,
তোর গোলাপী ঠোঁটে।

পাহাড়ী খাদের গভীরে নর্দমা শাসন করে;
ভীড় বাসে চেপ্টে ঝোলে চ্যাটচ্যাটে চেতনা!
বগলগুলো থেকে নেমে আসে ক্যাকটাসের কান্না।

জানি তুই কর্পোরেট প্রাণী!
শশা-টমেটোর প্লেটে গুছিয়ে রাখিস
আবেগ, যৌনতা!
জ্যাম -জঞ্জাটে মুখোমুখি হই আমরা,
চেটে খাই তোর শরীরের রস!
পাশ ফিরিয়ে চলে যায় তোর শহর।

তবুও জমাজলে ঠোঙা আর বার্গার একসাথে ভাসে।
চল রাত হল;
আমি ছিলিমে আগুন দিই,তুই বরং
পাবে ঘাম ঝরা!

Wednesday, August 8, 2018

শাহজালাল হোসাইন পরশ

ভুলে গেছি সব     
                

ভুলে গেছি সব,
কে কি বলেছিল, কে কথা দিয়েছিল।
যে বা আবার প্রতারনায় মুখ লুকিয়েছে আড়ালে।
সত্যি ভুলে গেছি, ভুলেই গেছি সব।

মনে আছে সেটুকু যেটুকু আচড় কেটেছিল এ বুকে

সেদিনের কথা গুলো।
হ্যা সেই ছেলেটিই আমি,...
যে বদলে গেছি অনেকখানি ছিন্নছেড়া পালের মত,
আজ সব ভুলে গেছি,ভুলে গেছি সব।

শুধু মনে আছে সেদিনের ব্যাথাগুলো।

আজ হঠাৎ করে নিঃস্তম্বনে, 
বুকের আচড় গুলো দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

সেই ভুলে যাওয়া কথা গুলো, 

চোখের কোনায় জল নিয়ে আসল কিন্তু 
আমি তো সব ভুলে গেছি।

কেনই বা তাহলে চোখের জল

সে কি কিছু খুজছিল নাকি এমনি অনড়গল।
না না, পিছন ফিরে তাকাবো না।
ভুলে গেছি সব, হ্যা আমি সত্যি ভুলে গেছি সব।


সামিন শুভ

হতে চাই প্রেমিক 


আমিও হতে চাই প্রেমিক 
প্রেম সাগরে হাবুডুবু খাওয়া 
তুমুল প্রেমিক। 
প্রেয়সীর চুল, প্রেয়সীর গাল
নিয়ে হতে চাই বেসামাল।


প্রেমিকের ন্যায় আমিও চাই
পাশাপাশি আঙ্গুল চেঁপে হাঁটতে,
মনপিঞ্জর উদাসীন করে
তার পারফিউমের গন্ধ 
নিজ গাঁয়ে মাখতে।


আমিও  চাই হতে প্রেম-পাগল
প্রেম-মোহ গায়ে মেখে
এক তুমুল পাগল, 
প্রেমিকার ক্ষণ,প্রেমিকার বিহন 
নিয়ে পোহাতে চাই দহণ।


প্রেমিকের ন্যায় আমিও চাই 
প্রেমিকার ঠোঁটের রাঙা হাসি,
আমিও বলতে চাই,ভীষণ জোরে
কিংবা ফিসফিস করে 
তোকে বড্ড ভালোবাসি


জয়ন্ত শীল

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা 

আমগেন্দা, 


এই নাও স্বাধীনতা

রাস্তার মোড়ে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হয়। 

দিনের শেষে ব্যস্ত শহর ক্লান্ত, স্তব্ধ 

আফিমের নেশায় বুঁদ হয়ে ঘুমিয়ে পরে। 

সাক্ষী হয়ে থাকে শুধু চাঁদ, রাস্তা,কয়েকটি কুকুর 

নিয়ন আলোয় ধর্ষিত হয় স্বপ্ন। 

মধ্যরাতে লাল নক্ষত্রের পাড়ে যখন বৃষ্টি শেষ হয় 

আকাশ থেকে গলে পড়ে উল্কা, ধূলো-ময়লা, কফ।

আমগেন্দা, 

এই নাও, ধরো। 

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা নিও। 
পুরনো কোনো শপথকে আবার 

নতুন করে নিও, 

হয়তো সেই রাতে চাঁদ নয় 

মেঘ চিরে নেমে আসবে সূর্যরশ্মি 

নতুন আঙ্গিকে, নতুন কোনো স্বাধীনতা দিবসে। 

বিজন বোস

অভিবাদন



দেখতে দেখতে সত্তরটি বছর অতিক্রান্ত

স্বাধীনতা তুমি কি এখনো কৈশোরে  ?
নাকি যৌবন তোমার অঙ্গে  ? ---
যখন তুমি হওনি স্বাধীন
সবার মনে ছিল আশা ; চোখে আকাশ স্বপ্ন 
পরাধীনতা ঘুচিয়ে আসবে স্বাধীনতা 
দেশ মাতৃকা হবে মুক্ত অধীনতা ;
সবার জন্যে হবে অন্নবস্ত্র বাসস্থান     --                নিশ্চিত হবে  কর্মসংস্থান ।

স্বাধীন দেশের স্বাধীন পতাকা 
উড্ডীণ রবে 'চির উন্নত শির '
ভারত মায়ের দামাল ছেলেরা
হবে বিশ্ব বরণ্যে বীর ।
গণতন্ত্র শ্রেষ্ঠতন্ত্র সর্বতন্ত্র মাঝে
হানাহানি দলাদলি নয়
লাগবে মানব সন্পদ তৈরীর কাজে ।
সেদিনের কৈশোর আজকের প্রৌঢ়
হিসাব মেলাতে ব্যস্ত 
'একবুক আশা একরাশ স্বপ্নের --
একটি শিশুও অভুক্ত থাকবেনা ' --
অথচ লক্ষ শিশু এখনো পথে পথে ঘুরে
যাওয়ার কথা স্কুলে শার্ট প্যাণ্ট বুট পরে--
যাচ্ছে রাস্তার মোড়ে খাবার কুড়োতে 
একটা টাকা দাও বলে বাবুদের কাছে হাত পাত্তে ।
কুকুরের সঙ্গে একসাথে খেতে  কোন লজ্জ্বা নয় 
ফুটপাথ তাদের নিরাপদ আশ্রয় ।
যারা জীবন সংগ্রামে ঘাত প্রতিঘাতে
আজ দৈন্য থেকে দৈন্যতর
তাদের জন্য একটু আশ্রয়  একটু ভালবাসা 
সেদিন ছিল এমনই আশা  ,
স্বাধীনতা,  তারা একরাশ আশার বদলে পেল
একবুক দীর্ঘশ্বাস 
একচোখ স্বপ্নের বদলে একরাশ হতাশা ।
কথা ছিল প্রৌঢ়ত্বেরকালে দেবে          
 নিশ্চিত আশ্রয় আর দুমুঠো অন্ন , 
অথচ তারা আজো অসহায় 
দুমড়ে মুচড়ে ছিন্নভিন্ন ।--
আর সন্পৃতীর কথা ?
নাগিনীর বিষাক্ত নিশ্বাঃসে
কালোমেঘে ছেয়ে গেছে নীলাকাশ
অবিশ্বাসের বাতাবরণ সর্বব্যাপী, 
সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি --
এক ভারত গড়ার নামে সান্প্রদায়িক বিদ্বেষ

ভাইয়ে ভাইয়ে হানাহানি --

তোমার অঙ্গে তৈরী করেছে ক্ষত

চায়' আজাদ কাশ্মীর ' ।

ওরা  এত বিদ্রোহী কেন ?


খুঁজো খুঁজো উত্তর,  পাবে সমাধান 

দাও সবাকারে সমান সন্মান , দাও নিরাপদ আশ্রয় 

ভেঙে চুরে দুমড়ে মুচড়ে দাও

সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত ,

তবেই হবে 'এক ভারত ' ' শ্রেষ্ঠ ভারত ' সবার বাসযোগ্য ভারত-----

তবু তোমায় গোলাপী সেলাম সশ্রদ্ধ অভিবাদনসবার আশা পূরণ করতে পারবে যবে

সেদিন "ভারত আবার জগত্ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে ।

প্রসেনজিৎ দে

অনুরাগী মন
                       

সেদিন ঘুমের ঘোরে ডেকে উঠেছিলাম 
তোমায়, বুঝতেই পারিনি চাঁদ হাসছিল ।
দূরত্বটা যেন খুবই লাগু লাগু 
খানিকটা পথ পেরিয়েই তুমি এলে ।
ভারী সুন্দর দেখাচ্ছে তোমায় পরীর 
বেশে, ঠিক যেন রাত গড়িয়ে
একটি আলোকিত দিন, অবাক হওয়ার, 
খোঁপায় একগুচ্ছ শুভ্র গন্ধরাজ ফুল ।
তুমি রোজ হেঁটে যাও ছমছমিয়ে
পায়ে আঁকাবাঁকা আলতা গড়া নদী
ভেসে যাওয়া সকল বিরহ-জ্বালা 
মিশে যায় তোমার গা-বেয়ে প্রতিদিন ।
আমিও যে বসে থাকি অপেক্ষায়, 
সমুদ্রের মত বিশাল হৃদয় নিয়ে ! 
তুমি আসবে , সুখ-দুঃখ বিরহ-যন্ত্রণায় 
দুজন দুজনাতে একাকার হয়ে রই ।
স্বপ্নেও তোমায় বেসেছি ভাল আর কল্পনায়ও, 
তাইতো সকল ক্লেশ সইতে প্রতীক্ষায় বাস্তবেও।

রঞ্জিত দেবনাথ

স্বাধীন  ভারত

ভারত মায়ের সন্তান আমরা

গাই স্বাধীনতার জয় গান ।

সীমান্ত রক্ষা করছেন বীর 

বাঁচাতে ভারত মায়ের মান।
শোনো শোনো তুমি ওহে বীর

দেখাও যত আছে পরাক্রম 

এগিয়ে আসছে শত্রু মোদের

স্বার্থক কর তব পরিশ্রম ।
ধনে ধান্যে শষ্যে পুষ্পে

শুগন্ধীত সারা ভুবন

ঝর্ণার জলে নাচে কৌতুহলে

দেখিয়া জুড়ায় ব্যাথিত মন।
হংস বদন, মোহন মদন

গোপী গণ রাশি রাশি

জটিলা, কুটিলা, অবলা,সরলা

আরো যত ছিলো রাক্ষসী।

ওগো আমার জননী জন্মভূমি

নয়নে হেরিয়া তব মুখ

তোমার চরণে লুটিয়া মাগো

পেলাম মাতৃ ভূমির সুখ।
আকাশে-বাতাসে ভুবনে গুঞ্জিবে

ভারত মায়ের জয় ধনি

স্বাধীন ভারতের যত শহীদ আজ

ভারত মায়ের চোখের মনি।


সুধীর দাস

শুধু তোমারি জন্য

সবুজ স্বপ্ন অনন্ত মাঝারি দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে;
তোমারি স্পর্শকাতর তৃণে গড়াগড়ি ।
পদধ্বনির স্বপ্ন লালিত্য তাজা তৃণের স্পর্শে;
তোমারি আখির সেই আঁকাবাঁকা চাওনি।
কালো হরিণী নয়না চোখের চাহনির দৃষ্টি;
মোর চোখে দিয়ে যায় শুধু অজস্র স্বপ্নের সৃষ্টি ।
তোমারি মনোমুগ্ধকর স্নিগ্ধ মধুর হাসি;
আমায় নিয়ে দেয় সপ্ত সিন্ধু তের নদী পাড়ি ।                                               


    


অভ্রজিৎ দেবনাথ

কলিলীলা

ঘড়ি হাতে সেঁজে-গুঁজে
সাহেবি চলন,
স্টাডিটাইম ফাঁকি দিয়ে 
গার্ডেন ভ্রমণ।
সবে দেখা ভালো-লাগা
নতুন পরিচয়,
ফুচকা হাতে চোখে চোখে
লেটার পাস হয়।
সারাদিন ঘুরে বেড়ায় 
দুই চঞ্চল,
হোয়াটস্-এপে কথা বেচে
রাত্রি সফল।
সপ্তাহের শুরু থেকে 
গিফ্টস প্রচুর,
অবাঞ্ছিত এক ঝড়ে
রিলেশনে ভাংচুর।
অবশেষে ফুচকা স্টোরে
আবার দেখা হল
চেনা কারোর চোখটা এবার
ফাঁকি দিয়ে গেল।


দেবব্রত চক্রবর্তী

যুবশক্তির প্রতি


আমরা নবীন আমরা প্রবীণ আমাদের প্রান চঞ্চল, 
আমরা স্বাধীন আমরা প্রবল আমাদের পথ উজ্জ্বল ।
আমরা চাই মুক্ত আকাশ মুক্ত বাতাস মুক্ত খোলা জ্ঞ্যান, 
আমরা চাই নতুন প্রজন্ম নতুন নতুন বিজ্ঞান। 
চাইনা মোরা হীন বল চাইনা আবেগ আশা, 
দু'চোখ ভরে চাই যে মোরা সবার ভালোবাসা। 
অন্ধকার কে করিনা ভয় নতুন দিগন্তে আর_
নতুন প্রানে নতুন আশা নতুন আলোর সম্ভার।
আমরা চাই গুচ্ছ দল এগিয়ে আলোর সন্ধানে, 
আমরা চাই পূর্ন হোক স্বপ্ন যাদের অঙ্গনে। 
নিত্য দিনের কর্মকাণ্ডে হারিয়ে যাদের স্বপ্ন, 
স্বপ্ন তাদের বাস্তবে হোক অষ্ট ধাতুর রত্ন। 
জন্মে ছিলাম এই লক্ষ্যে করব রক্ষা সবাকার, 
আসুক বাঁধা আসুক না ঝড় মোদেরই হবে জয়জয়কার।

মুকিম মাহমুদ মুকিত

কবির জ্যোৎস্না রাত


চাঁদখানি আজি পূর্ণতা পেয়েছে
গোল হয়েছে দেহ,
আনন্দে তাই আত্মহারা
হাসি দেখেছে কেহ।
দুধের মতো ধবল আলতা
পরেছে তার পায়,
আলতা রাঙা পায়ের রূপ
ছড়াচ্ছে সারা গায়।
কলমি লতার ফুল ফুটেছে
লাজে রাঙা হলো তারা,
চাঁদের হাসিতে লাজ ভুলে হাসে
নবীন এলো যারা।
বকুল তার গন্ধ ছড়ায়
ভুলে সকল কাজ,
দীপ্ত পায়ে বধু এসেছে
তার ভেঙেছে লাজ।
জ্যোৎস্না রাতে ঘুম আসে না
বাইরে বেড়ায় সে,
চাঁদখানি আজ হেসে হেসে বলে
একলা এলে যে !
ঘোমটা খুলে চাঁদ দেখে বধু
অপরূপ বসুন্ধরা,
তারাগুলো সব দিচ্ছে সাঙ্গ
নাচছে বাঁধনহারা।
সবাই যখন ব্যস্ত রয়েছে
লুটাতে জ্যোৎস্না রূপ,
কবি তখন সকল ভুলে
কবিতায় দিয়েছে ডুব।
জ্যোৎস্না আলোয় কবি ভেবে চলে
নতুন রঙের কবিতা,
কাব্যখানা তার লিখতে হবে
চলবে না কোন ভনীতা।
কবিতা তাহার প্রেম ভালোবাসা
কবিতা জ্যোৎস্না আলো,
কাব্যখানা পূর্ণতা পেলে
সব লাগবে ভালো।
নইলে রাতে ঘুম হবে না
কুৎসিত লাগবে চাঁদ,
আজ রাতে তাই সব ভুলেছে
কবিতা দেয় নি বাদ।

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...