Saturday, April 29, 2023

মনন স্রোত

সম্পাদকীয়

জগতে মানুষ কেন অমর হতে চাইবে! জীবন নাকি যন্ত্রণাময়, অতিষ্ঠ। জ্বালাপোঁড়ায় ছটফট করতে করতে যাপন, জীবনের। এ পথচলা শেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার মৃত্যু। জীবনের ক্ষেত্রে মৃত্যু বড় গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যু ভিন্ন এত নির্ভুল, স্বচ্ছ বিষয় জগতে আর নেই। এটিকে উপেক্ষা করার সাধ্য নাই। অমরত্বের কোনো বাস্তবতা নেই। এরপরও অমরত্বের কথা আসে। কেন আসে, কিভাবে আসে, এ জিজ্ঞাসা সকলের প্রায়।
.
প্রতিটি দর্শন মৃত্যুকে সম্মান দিয়েছে। প্রাণী মাত্রই তাঁকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক। এ সংখ্যাটি প্রকাশ করার সময় মনে মনে মন্ত্রের মতো জপ হয়েছে এটি। মন্ত্র মানে মননাৎ ত্রায়তে। মৃত্যুকেই মনে করা। ধন্যবাদ যারা লিখেছেন। কৃতজ্ঞ সকলের কাছে।

বিনম্র
জয় দেবনাথ
সম্পাদক
মনন স্রোত

মনন স্রোত - এপ্রিল

সান্তা দেবনাথ

লাল বেনারসি

উঠানে তখন ভাদ্র মাসের প্রখর রোদ। ফকফকা সোনালী আলো। কাঁঠাল গাছের পাতার সুন্দর নকশা করে পড়ছে রোদ। তখনো দু তিনটে কাক ডেকে যাচ্ছে। অথচ সুমতি কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। চারদিকে এত আলো কিন্তু সুমতির দুচোখে শুধুই অন্ধকার। দুপুর পেরিয়ে বিকেল হতে চলল সুভাষ বাড়ি এসে  'সুমতি সুৃমতি...' বলে ডাকছে কারোর কোনো সাড়া নেই। ঘরে ডুকতেই দেখল মেঝেতে সুমতি শুয়ে আছে। সুভাষ একটু হেসে বলল' কি সুমতি এতো ডাকলাম শুনতেই পেলে না। এই বলে সে সুমতিকে ছুয়ে অবাক হয়ে গেল,শরীর সাপের মতো ঠান্ডা হয়ে আছে। মুখটা ঘোরালে দেখতে  পেল ঠোঁটের কোণে লালারস ঝরে পরে শুকিয়ে আছে। আর বুঝতে বাকি রইল না।

   সুভাষের চোখের সামনে ভাসতে লাগল বারো বছর আগের অগ্রহায়ণ মাসে সে একটি সুন্দরী কন্যাকে দেখতে যায়। লাল টকটকে শাড়ি পড়ে কন্যাটি পানের বাটা হাতে সামনে এসে দাঁড়াল। প্রথম দেখাতেই সুভাষ ও তার মায়ের সুমতিকে বেশ ভালো লেগে যায়। সুমতি বউ হয়ে যখন প্রথম শ্বশুর বাড়ি আসে তখন পাড়া পরসি সবাই সুভাসের মায়ের পছন্দের বেশ প্রশংসা করে। একজন প্রতিবেশী বলেন' সুভাষের বউ যেন সাক্ষাৎ লক্ষ্মী প্রতিমা।' আর একজন বলেন ' এ পাড়াতে এ বউকে টেক্কা দেবে এমন বউ আর একটা আছে?'তা শুনে সুভাষের মায়ের গর্বে বুক ভরে যায়।তিনি বউমার খুব খাতির যত্ন করেন।কিন্তু এত সুখ সুমতির কপালে সয় নি।সুমতির জরায়ুতে টিউমার অপারেশন হওয়ার ফলে সে বাচ্চা হওয়ার ক্ষমতা হারায়। তারপর থেকে সুভাষের মা তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলেন।সুমতি ও বলেছিল।কিন্তু সুভাষ বিয়ে করতে রাজি হয়নি।সুভাষ সুমতিকে বলে ' দেখো সুমতি কত বাচ্চা মাতৃহীন পিতৃহীন রাস্তায় অনাথ আশ্রমে বড় হয়ে উঠছে। তাদের থেকে তো আমরা একটা বাচ্চা নিয়ে আসতে পারি।সুমতি এ প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। কিন্তু সুভাষের মা রাজি হননি।তিনি বলেন 'আমি আমার নিজের নাতি নাতনি চাই, আমার বংশধর চাই। ওসব চালচুলোহীন রাস্তার ছেলে মেয়ে এনে আমার বাড়িতে ফেলবে। আমি বেঁচে থাকতে তা হচ্ছে না বাপু।' সুতরাং এ প্রস্তাব এখানেই চাপা পরে যায়।
 
    তারপর কয়েক বছর পর হঠাৎ সুভাষের বদলির অর্ডার আসে। আগরতলা থেকে বদলি হয়ে যায় মনুতে।সুভাষ তার সাথে সুমতিকেও নিয়ে যেতে চায়,সুমতি যেতে রাজি হয়নি।সুভাষ চলে যায় সুমতি সদর দরজা পর্যন্ত স্বামীকে এগিয়ে দেয়। যতটুক পর্যন্ত গাড়ি দেখা যায় সুমতি তাকিয়ে থাকে। গাড়ি চলে গেলে সুমতি নীরবে চোখের জল মুছে। তার স্বামীর সাথে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। যেদিন সুভাষ খেতে বসে মাকে বলছিল ' মা আমার তো মনুতে বদলি হয়ে গিয়েছে, ভাবছি তোমাকে আর সুমতিকে নিয়ে যাব।আর আমি সেখানে ঘর ভাড়া ও নিয়েছি। তোমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।' তখন সুভাষের মা বলেন ' না বাবু আমি তোমাদের সাথে যাচ্ছি না।এখানে ঘর বাড়ি ফেলে ওখানে গিয়ে আমি থাকতে পারব না।তোমরাই বরং যাও।' সুভাষ বলে ' আমরা ওখানে থাকব আর তুমি এখানে একা থাকবে। যদি তোমার অসুখ বিসুখ হয় কে দেখবে।' মা বলল ' আমাকে নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। আমি থাকতে পারব।' এত বলার পরও তিনি রাজি হননি। সুভাষ উঠে চলে যায়। সুমতি এটো থালা বাটি নিয়ে যায়। শাশুড়ি সুমতিকে ডেকে বলে ' দেখো বউমা, বাবু তোমাকে নিয়ে যাবে বলছে তুমি কিন্তু আবার চলে যেও না।তুমি তো আর আমাদের বংশধর দিতে পারবে না।আজ এতবছর ধরে বলছি বিয়ে কর করলো না। তোমার কাছে থাকলে তোমার মায়া কাটাতে পারবে না। এখন কিছু দিন তোমার থেকে দূরে থাকলে তোমার মায়া কাটাতে পারবে। পুরুষ মানুষ তো একা থাকলে মন পরিবর্তন হবে।' সুমতি মৃদুস্বরে বলে ' ঠিক আছে।' তারপর সে সুভাষকে বলেছে ' মা বয়স্ক মানুষ ওনাকে ছেড়ে যেতে আমার মন মানছে না। তাছাড়া তুমি তো প্রতি শনি রবিবারে আসবেই। এখন তুমি একাই যাও।

   শনিবার দিন সুভাষের আসার কথা। সুমতি সকাল থেকে সুভাষ যা যা খেতে ভালোবাসে সব কিছুই রান্না করেছে। কিন্তু সেদিন সুভাষ আসে নি। সন্ধ্যা সময় সুমতিকে ফোন করে বলে ' সরি, আজ আসতে পারছি না  জরুরি কাজে আটকে গেছি কাল আসবো।' এই বলে সুভাষ ফোন রেখে দিল। সুমতির চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল গাল বেয়ে পরে। তা দেখে শাশুড়ি মনে মনে খুশি হয় ভাবে ' ছেলের মন ফিরেছে।' সুমতিও যেন সুভাষের মধ্যে কিছু একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করে। সে ভাবে হয়তো তার খারাপ লাগবে ভেবে সুভাষ আর দ্বিতীয় বিয়ে করে নি। সেদিন রাতে আর সুমতির ঘুম আসে নি। পরের দিন সকালে সুমতি ঘরে থাকা ইঁদুর মারার ঔষধ খেয়ে সুভাষের জীবন থেকে চিরতরে সরে যায়।
   
   সুমতিকে লাল বেনারসি পড়িয়ে, পায়ে আলতা,  সিঁথিতে লাল সিঁদুর পড়িয়ে দেয় সুভাষ। সে সুমতির দিকে তাকিয়ে থাকে ভাবে ' এ যেন সেই ১৫ বছরের বালিকা সুমতি আজ আবার শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে। তার সত্যি কারের শ্বশুর বাড়ি। যেখান থেকে সে আর কখনো ফিরে আসবে না, কেউ ফিরে না সে ও ফিরবে না। যেমন ভাবে সুমতি এবাড়িতে এসেছিল ঠিক সেভাবেই চলে যাচ্ছে। কোথাও কোনো পিছুটান নেই। সব বন্ধন ছিন্ন করে চলে যাচ্ছে।

পূজা মজুমদার

প্রথম দেখা

তোমাকে প্রথম দেখার আজ এই দিনে ধরণীর বুকে জন্মেছে এক নতুন ইতিহাস,
থেমে গিয়েিছলো সময়ের চাকা, থেমে গিয়েছিলো নদীর স্রোত।
থমকে গিয়েছে মহাকাল, স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে  বিরহে
গাঁথা সব কবিতার পঙক্তিমালা।
পাশাপাশি থাকার  নিঃশ্বাস ছড়িয়েছিলো কিছুটা বেশি উত্তাপ!

ঙচুপ করে ছিলাম । দুজনে দুজনকে জাপটে রেখেছিলাম কিছুসময়।  ভালো লাগা আর ভালোবাসার চাওনিতে আচ্ছন্ন ছিলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে । সে এক অন্য রকম চাহনি।  যে চাহনিতে অনেক কিছুই বদলে যায় আমাদের।

গৌতম মজুমদার

আমার মা
.
মাগো,তুমি কোন জাতেরি মা?
নিজ সন্তানকে করছো ক্ষত বিক্ষত।
হিংসা ক্ষোভে কেউকি বাঁচে মা?
সব মায়েরা নয়কো তোমার মতো।
    
আমার মা তো হাসি মুখে সুধায়
"খোকা তুই করিসনা কো ভয়,
আশীষ আমার সঙ্গে যে তোর আছে
এ বিশ্বটা করবি যে তুই জয় ।"

রাগ করে মা বকুনি দিত যখন
অভিমানে চাইনি খেতে ভাত,
খাবার নিয়ে মুখের সামনে ধরে
বাড়িয়ে দিত সোহাগ মাখা হাত।

জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বক তাম যখন
মাথার কাছে জাগতো সারা রাত,
উপোস করে ঠাকুর ঘরে গিয়ে
রোগ সারিয়ে করতো বাজিমাত।

যেদিন মাকে রাখি বৃদ্ধাশ্রমে --
জড়িয়ে মোর গালে চুমু খেয়ে
হেসে বলে -- "সাবধানে যাস খোকা",
মুখপানে মোর রইলো শুধু চেয়ে।

সব চাহিদা পূরণ করতো মা --
হৃদপিন্ডটা চাইতেই হেসে বলে --
"এ আর এমন কি চেয়েছিস খোকা,
নিয়ে নে না বুক থেকে মোর খুলে।"

হৃদপিন্ডটা তুলে নিলাম হাতে
মা যে আমার বড্ড ভীষণ বোকা,
দৌড়তে গিয়ে রাস্তায় গেলাম পড়ে
হৃদপিন্ডটা হঠাৎ উঠলো বলে --
"তোর কোথাও লাগেনি তো খোকা ?"

চমকে উঠি মায়ের কষ্ট শুনে --
বললাম, আমায় --"ক্ষমা করো মা --
এ ভুবনে তোমার অধম খোকা
আজও তোমায় চিনতে পারলো না।"

পায়েল সাহা

ইন্টারনেট 

ইন্টারনেট, ইন্টারনেট।
হোয়াট ইজ ইন্টারনেট? 
সারা বিশ্বকে করে কানেক্ট,
ইট ইজ ইন্টারনেট।

হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুকে তোমার মাধ্যমে করে কানেক্ট,
শুরু হলো হাজারো মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আর ইনবক্সে কমেন্ট।
      ইন্টারনেট, ইন্টারনেট।
ইউটিউব, ইনস্টাগ্ৰাম চলে না তো তোমায় ছাড়া।
নেট প্যাক শেষ হলে মানুষ হয়ে যায় দিশেহারা।।
মনের কথা হোক বা দুঃখের কথা,
সামনাসামনি কাউকে বলতে পারি না যেটা।
মোবাইল ফোন এ দেখে হোয়াটসঅ্যাপ আর মেসেজ বক্সটা,
 নিঃদ্বিধায় মন খুলে বলতে পারি সেটা।।
ইন্টারনেট, ইন্টারনেট।
হয়তো তোমার মাধ্যমে উপলব্ধি করি ক্ষনিকের আনন্দটা।
এইভাবেই সারা জীবন টিকিয়ে রেখো হাজারো মানুষের বন্ধুত্বটা।

বিশ্বজিৎ মানিক

মুক্ত আলোর পথে
.
আর কতকাল আবেগ হত্যা করে
অজ্ঞতার অন্ধ পথে
হেঁটে বেড়াবে উদ্ভ্রান্তের মতো?
আর কতকাল?
বরং,তার চেয়ে এসো খোলা ছাদে ৷
স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেবে
এক ঝলক শীতল বাতাস
তোমার স্নিগ্ধ মায়াবী চোখে৷
আকাশ পাড়ে চেয়ে দেখো
জ্যোৎস্নার আলো ভেসে যাচ্ছে চারিদিক ৷
ছাদের কোণে শিউলি গাছটার
পাতার আড়ালে।
মধুর সুরে গান গেয়ে যাচ্ছে
নাইটেঙ্গেল৷
দূরের ওই আকাশ ডানা মেলেছে
পূর্ণ চাঁদের রূপালি আলোয় ৷
হাতছানি দিয়ে বারবার ডাকছে তোমায় ,
যেন তুমি বেরিয়ে পড়ো 
মুক্ত আলোর পথে ৷

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

বৃষ্টি চেনে ভালোবাসার শরীর
.
ঝলসে দেওয়া দাবদাহের গদ্যে
বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ কবিতা হয়ে ঝরে পড়ে 
বৃষ্টির দামালপনায় সাদা আবীর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে
এক অচেনা আনন্দ বিস্ময়ভরা চোখে দেখতে থাকে সেসব

পথের কোণের বটগাছটার গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকে ভালোবাসা
ভেজা যৌনতার বিন্দু বিন্দু আদরে ভালোবাসার রঙ লাল
কাঁপা আবেগ বৃষ্টির মতোই শরীর মাতায়
একটা খোলা পৃথিবী দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে থাকে ওদের 

কপাল থেকে গড়িয়ে পড়া ফোঁটায় যেন আসমানী রঙ
ডানা মেলে উড়ে যাওয়া মেঘ দেখতে থাকে দুষ্টু চোখে
প্রাণের ক্লোরোফিল জমতে থাকে কোষে কোষে
একটা আদিম পৃথিবী সামনে এসে দাঁড়ায়
বটগাছটা ডালপালা মেলে ওদের লজ্জা ঢাকতে থাকলে 
বৃষ্টির আলপনায় ভালোবাসা সব পেয়েছির গল্প বলে দুদন্ড। 

জয়িতা দে

সর্বংসহা
.          
আমি নারী,তাই-
আমি নির্যাতিত নিপীড়িত,
অবলুন্ঠিত অবহেলিত।
আমি নারী তাই-
আমাকে দেওয়া হয় অপবাদ।
যদি করি অন্যায়ের প্রতিবাদ
তবে সমাজ আমায় দেয় অসভ্য মেয়ের তকমা।
আমি নারী তাই-
আমাকে নিয়ে হয় নানান রঙ্গ তামাশা।
মাতৃগর্ভে ভ্রূণ অবস্থায় হয় আমার নিধন।
ছুঁড়ে ফেলে দেয় আবর্জনার স্তূপে
ছিঁড়ে খায় শেয়াল কুকুরের দল।
আমি নারী তাই-
রাত বেরাতে একা চলতে গিয়ে ভয়ে থাকি।
কারণ সমাজের লোলুপ কামনার দৃষ্টিতে দগ্ধ হতে হ‌য়
হিংস্র হায়েনার দল নারীমাংসলোভে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আমি রিক্ত, আমি শূন্য তাই-
এ জীবন হবে না কখনো পূর্ন।
আমি নারী ,আমি সর্বংসহা।
বুকের মধ্যে আগুন জ্বেলে সেই আগুনে
যেমন পুড়িয়ে দিতে পারি, তেমনি রণরঙ্গিনী রূপে শুধরে দিতে পারি সমাজের বিকৃত মানসিকতাকে।

মিঠু মল্লিক বৈদ্য

এলোমেলো পৃথিবী
.
আমার সাজানো পৃথিবীটা আজ
কেমন যেন এলোমেলো,
সাদা কালো জীবনে স-বটুকু বিবর্ণ 
পাতা ঝরা গাছের মতো ;অস্তিত্বের সংকটে।

হাসিতে সজীবতা! যথেষ্ট প্রশ্নচিহ্ন,
মনের আড়ালে লুকিয়ে কান্না
ভালোলাগার পৃথিবীতে  একঘেয়েমি,
মনখারাপের দলেদের নির্লজ্জ লাফালাফি।

আনন্দ উৎসরা দূর-বহুদূর ;
নিঃসঙ্গতার ভয়ানক ঔদ্ধত‍্যতায় 
আবেগী বাঁশীটা বেজে উঠে বার বার ;
উদাসী চোখে ভেসে বেড়ায় ক্লান্ত স্বপ্নরা।

আমার সাজানো পৃথিবীটা আজ বড্ড এলোমেলো 
পাথরচাপা মনটা চঞ্চল হয়ে উঠে হঠাৎ  হঠাৎ,
রাতের ঘুমগুলি চুরি যায় বিবশতার হাতে ;
মুক্ত হাসিরা? হেরে গেছে সমর্পণের কাছে।

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...