Sunday, October 10, 2021

সাধন নমঃ

তোমায় দিলাম
             
চাও নি কিছুই
তবুও মনের মধ্যে দীপ্ত বাসনা।
বহু দিবা-রাত্রি যাপন করেছ,মুখ ফুটে বল নি কিছুই।
তবুও আমি তোমায় একটা সকাল দিলাম,
তাতে তুমি সূর্যের রক্তিম আলো দিও।
একটা দুপুর তোমার হাতে দিলাম,
তাতে তুমি রবির প্রখরতা এনো।
একটা শীতল বিকেল দিলাম বধূ,
তুমি তাতে কোকিলের গান বুনো।
সন্ধ্যাটুকু রাখলাম শুধু,কথার আসর বসাবো।
দিনান্তে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে
তোমার খোঁপায় গুঁজে দেব
একশ আট টা লাল গোলাপ।
গোপনে কইব কথা কপোলের ফাঁকে ফাঁকে,
হৃদয়ে বাজিবে বাঁশি তব ছোঁয়াতে।
আমার শেষ রজনীটুকু দিলাম বধূ
স্বপ্ন এঁকো নানা আদলে।
হিমাদ্রি শিখর পাড়ি দিয়ে
ফিরবো তোমার আঁচলে।

সৈকত মজুমদার

নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই
তুমি যে আমায় ভালোবাস অথবা
আমি যে তোমাকে ভালোবাসি;
না আছে আমাদের কোনো সেলফি
আর না আছে কোনো উপহার সামগ্রী। 

তবে তোমার সাথে প্রথম আলাপ 
আর প্রথম দেখার তিথি মনে আছে,
মনে আছে তোমাকে প্রথম ছোঁয়ার স্মৃতি

মিঠুন দেবনাথ

জীবন যেন আলেয়া

অজানা এক সপ্নের ভীরে,
গেছি আমি হারিয়ে।
আলো ভেবে করেছি মস্ত বড় ভূল,
আলেয়ার পিছনে হাত বাড়িয়ে।

কোথাও আলো কোথাও অন্ধকার, 
কোথাও আবার দুঃসপ্নের আনাগোনা। 
সপ্ন ভেবে যাকে রেখেছি বুকে আগলে,
অচিরেই দুঃসপ্ন হয়ে করল চুরমার ...
মনের সব প্রিয় ভাবনা।

তরী ভেবে করেছিলাম ভর,
 তটিনী পারাবার ত্বরে।
তরী যেন চায় না চলতে,
বাধা হয়ে অজানা বালি চরে।

আশায় আশায় বুক বাঁধি,
হয়ত জীবন চলবে জীবনের শ্রোতে।
প্রতিনিয়ত জীবন করছে জীবনের সাথে খেলা,
উন্মত্ত হয়ে আছে জীবন কে হারাতে।

বিধাতা ও আজ যেন বন্ধ করে আছে দুটি আখি,
ভাগ‍্যদেবী চলে গেছে অনেক দূর।
বার বার ভাগ্য যে দিতে চায় ফাঁকি।

মরুর বুকে আছি বসে, 
যদি হয় এক পশলা বৃষ্টি।
আকাশে চলে সহশ্র মেঘের আনাগোনা, 
কিন্তু এক বিন্দু জলকনার উপর ও পরেনী দৃষ্টি।

সময় বদলে যায় সময়ের সাথে,
আমি কিন্তু সেই একই আছি....
 নিজেকে বদলানোর কিছুই ছিল না,
এই দুই হাতের রেখাতে।

অতনু রায় চৌধুরী

পছন্দের জিনিস

চোখ জুড়ে আটকে থাকে পছন্দের জিনিস
এই জিনিস আকাশছোঁয়া,
এই জিনিসে বিলাসীতায় ঘেরা।

এতে বাবার পরিশ্রমের ঘাম দ্বিগুণ হবে,
যদি এই জিনিস আমার করতে চাই
পূজোর কোনো সন্ধ্যায়‌।
এতে মায়ের শখ হারিয়ে যাবে,
জানি বায়না করলে নিশ্চয়ই এই জিনিসটাই আমার হবে।

তবুও সংসারের বেরাজালে  
জীবন যখন থাকে সুখের আশায়।
এই বিলাসবহুল জিনিস থাকে না তখন আর পছন্দের তালিকায়।

মৃণ্ময়ী সরকার

প্রতীক্ষা 
                 
বর্ষার কালো মেঘ সরিয়ে
শরতের রোদ্দুর,
বাঙালির মন কষছে হিসেব
প্রতীক্ষা কতদূর।

সিংহ বাহনা দশভুজা দেবী
মহিষাসুর পদতলে,
সাজো সাজো রব উৎসবমুখর
আসবেন ধরাতলে।

আলমগীর কবীর

সে আর আগের মতো নেই


কি অদ্ভুদ এক সমাজব্যবস্থা।
হাওয়া যেনো উল্টো দিকে বইছে।
মানুষগুলি লালসায় আসক্ত হয়ে গেছে।
কেউ কাউকে নিয়ে ভাবার সময় নাই।
বাতাসে বিষাক্ত বায়ু বইছে।

গাছপালা আর আগের মতো ধুলছেনা।
পাখিগুলি আর মানুষের কাছে আসেনা।
তারাও বুঝে গেছে, -
মানুষ পাখিদের পরিবারের কথা ভাবেনা।
একবার ধরতে পারলে আর ছাড়বেনা।

মানুষ রুপি প্রাণীগুলো আজ টাকার লোভে মত্ত 
তাদের বৈধ অবৈধ বিচার করার সময় নেই।
তাদের টাকায় তাদের সুখ।
হোক তা অবৈধ উপার্জনের অর্থ।

তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় তুলে। 
তাদের চোখের সামনে ঘটে যায় হাজারও অপরাধ।
তখন তাদের সময় থাকেনা।
তারা প্রতিবাদের কন্ঠরুদ্ধ করতে জানে।
শুধু চোখে চোখ রেখে সত্তিটা বলতে জানেনা।

তাদের কাছে ব্যঙ্গ করার মতো
 শব্দের অভাব নেই।
তারা শুধু ব্যঙ্গ করতেই জানে।
উৎসাহ দেওয়া তাদের কাছে
এক বিরক্তিকর অধ্যায় মাত্র।

পায়েল সাহা

মায়ের আগমন

 কাশ বনেতে দোলা লাগিলো,
 মা দূর্গা আসছি বলিলো।
শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে,
চারিদিকে আনন্দ ছড়িয়েছে 
শিউলির সুবাসে।
ঢাকে পড়িল কাঠি
পুজো কাটিবে জমজমাটি।
ঢাকের তালে কোমর দোলে,
বাঙালিরা সব তৈরি নৃত্য করিবে বলে।
বাচ্চারা নতুন জামা পড়ে ঠাকুর দেখিতে আত্মহারা।
এই খুশিতে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলে আনন্দে মাতোয়ারা।

সুশান্ত কবিরাজ

কুহেলিকা

আমার স্বপ্নগুলোকে আমি প্রতিদিন ভাঙি
আর প্রতিদিন  আবারও গড়ি।
প্রতিদিন কাটি, প্রতিদিন জুড়ি ।
তোমার আসাতে যেমন মনে জোয়ার আসে
তেমনি কখনও তোমার যাওয়া তে
 আবার তা বানে ভাসে।
জানি আমার জীবনে তুমি মিথ্যে,তুমি বড়ো কুহেলিকা।
তুমি, কোন সে দূরের অচীন পাখি।
যতই স্বপ্ন দেখি আমি,
জানি একদিন তো দেবেই ফাঁকি।

মিথ্যা আশা'র চাষা আমি, 
মিথ্যা ও প্রেম,মিথ্যা আবেগ,
মিথ্যা হবে সকল আশা।
মিথ্যা হবে স্বপ্ন যত, মিথ্যা হবে যত আশা।
তবু,আমি প্রতিদিন কাটি কত আঁকি বুকি, 
প্রতিদিন আমি নিই কত ঝুঁকি। 
নেশার ঘোরে, থাকো মন জুরে, 
তুমি ছাড়া ভাবি আমি ভবঘুরে।
তবুও মনে হয়, তুমি ছাড়া হায় !
কীসের জীবন, বাঁচার বলো আছে কোনো দায় ?

সৃজিতা নন্দী

খিচুড়ি


প্রত্যেক বছরের মত এবছরেও ইঁট ভাঁটা লাগোয়া 
দুর্গা পুজোর অষ্টমীর ভোগের তালিকায় আছে
পাঁচ মেশালি  খিচুড়ি, চচ্চড়ি। 
মা কে ভোগ নিবেদনের পর কমিটির চারজন দাদা 
দুই ডেকচি নিয়ে হেটে যাচ্ছে ইঁট ভাঁটার দিকে। 
গরম খিচুড়ির ঘ্রাণ... 
বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়
সবাই আজ ভোগের খিচুড়ি খাবে। 
থালা হাতে লাইন করে দাড়িয়েছে ভাঁটার প্রত্যেকটি মানুষ। 
এক চিলতে আনন্দ, 
জিভে গরম খিচুড়ির স্বাদ... 

সম্রাট শীল

রঙ্গিন কাগজ
            
পরিশ্রমের কাছেই তো দরদাম।
হোক না তা যেমন তেমন,
ঘাম ও সময় হিসেব কষে দেয়
তার প্রাপ্য দেনা পাওনার পরিমাণ।
সেকেন্ডর কাঁটা ঘূর্ণনে যেমন,
তৈরি করে ঘন্টার হিসেব,
সেই মতো কিছু হিসেব আবার,
ঘামের একেক ফোঁটায় জমতে থাকে।
শুধু দরকার হয় ঘাম শুকোনোর জন্য,
কিছু রঙ্গিন কাগজ।
আর সেই কাগজ বিলিয়ে,
জীবন সাজায় নিজের মতো করে।

গৌতম মজুমদার

এমন একটি গ্রাম আমি চাই


এমন একটি গ্রাম আমি চাই ---
যে গ্রামেতে মন্দির মসজিদ নাই,
আছে শুধু রাম রহিমের বাস
এক সাথেতে নিচ্ছে তারা শ্বাস।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে হিংসা বিদ্বেষ নাই,
পূজা নামাজ পাশাপাশি চলে
সাম্প্রদায়িক বীজটা ফেলে জলে।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে হাসেম গনেশ ভাই,
এক থালাতে খেতে পারে বসে
মুক্ত মাঠে ঘুরতে পারে চষে।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে শান্তি খুঁজে পাই,
সেথায় গিয়ে বাঁধবো সুখের নীড়
নানান রঙের থাকবে পাখির ভীড়।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে থাকবে হাসিটাই,
প্রাণ খুলে সব মনের কথা বলে
এমনি করে জীবনটা যায় চলে ।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে আছে যুবকরাই,
রক্ত দানে সবার আগে থাকে
বুক চিতিয়ে গ্রামকে আগলে রাখে।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে সংহতির অভাব নাই,
বিপদ মাঝে সবাই ছুটে আসে
দাঁড়ায় তাঁরা সবাই সবার পাশে।

এমন একটি গ্রাম আমি চাই---
যে গ্রামেতে প্রাণটা ফিরে পাই,
মিলে মিশে থাকবো মোরা গ্রামে
লেখা হবে সৌভ্রাতৃত্বের নামে।

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...