Saturday, November 21, 2020
পরিতোষ সরকার
বিপাশা দেব
সাধনা দেবনাথ
মা ও মেয়ে
ও পাড়ার কমলী আজ আত্মহত্যা করেছে,
তার যে মস্ত বড় দোষ,মেয়ে জন্ম দিয়েছে।
মায়েরা ছেলের সবটাই শুনে বউয়ের একটাও না।
আরে হতভাগা তুই তোর মাকে বোঝাতে পারলি না।
তুমিও তো দাদুর মেয়েছিলে,আজকে আমার মা
সেই তুমিই আমার মেয়ে হয়েছে বলে ওর মুখটিও দেখছনা।
মেয়ে হয়েছে বলে শাশুড়ি,ননদ গায়ে দিল হাত
মেয়ে জন্ম দেওয়া কি একটা মায়ের এতই অপরাধ?
পৃথিবীতে মেয়েরাই তো অনুভব করতে পারে মায়ের যন্ত্রণা।
হতভাগা ছেলেদের তো অনুভব করা ভাগ্যেই জুটে না।
দুর্গা মাকে প্রণাম কর লক্ষ্মীকে নিত্য পূজা অর্চনা-
সব মেয়ে তো মায়েরই রূপ তোমরা সেটা মান না।
মেয়েই মা, মা ও মেয়ে পরম পিতার দান।
মেয়ে হয়েও তোমরা কেন কর মেয়েদের অপমান?
শুভশ্রী দাস
অভিজিৎ রায়
মোহাজির হুসেইন চৌধুরী
মাহমুদ মুকিত
দেখছে কি কেউ কার সাথে কার কখন আড়ি ?
হঠাৎ কেন মাঝ দুপুরে নিকষ কালো সন্ধ্যে এলো
কেন-বা ওই রাতের তারা মান করে আজ খুব ঘুমালো !
কেউ জানে না,
ভিতর কেন জ্বলছে তবু বাইরে তার বুজছে আলো!
কিসের ক্ষত কেমন করে
পঁচন ধরে,
শুরুতেই নিঃশেষ হলো।
দিবস নিশি কতই খেলা
কেউ দেখে না কারো জ্বালা
কেউ বোঝে না নিজের ছাড়া
ব্যথা কত তীব্র ভাবে দিচ্ছে নাড়া।
আধ চক্রেই ধুঁকছে গাড়ি
ফিরছে সবে নিত্য বাড়ি
মুছে গেলে মেঘের আড়ি
জোছনা গায় সুখের সারি।
সংগীতা শীল
গৌতম দাস
মুক্ত চিত্তে পথে হাঁটার সুযোগ নেই অবলার
শুধু কাঁটা আর কাঁটা।
হাটে ঘাটে মাঠে , তেল মেখে দাঁড়িয়ে থাকে।
কাঁটার মুখে বারবার পড়ে ঝাঁটা।
তবুও হয় না সাফ।
আরও ধৈর্য্য নিয়ে বসে, শক্ত করে বুকের পাটা।
অবলা মেধায় শ্রেষ্ঠ ইচ্ছা শক্তি যথেষ্ট।
দেশ দুনিয়ার নাম করবে একথা স্পষ্ট।
পথের কাঁটা বলে-তার কত সাহস?
সকালে বাজারে ,বিকালে যায় খেলায়
মেয়ে মানুষ!ঘরের রান্না করাটা মানায়।
উচ্চ মাধ্যমিক বাহ্ বেশ,কলেজ?অযথা টাকা নষ্ট।
কাঁটার তালে ,পরিবার বিয়ে দিতে হল সচেষ্ট।
যদি বলি জুতা কোথায়?প্রশ্নটা পাপে পূর্ণ।
ব্যাথার ঔষধ?এখনও আবিষ্কারে শূন্য।
শক্ত এই কাঁটা অতি জঘন্য।
শোনো বোনরা যদি হও সাদাসিধে!
নানা বর্ণের কাঁটা নির্দ্বিধায় পায়ে বেঁধে।।
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে হল চুরমার।।
বাধা হয়ে দাঁড়াল পথের কাঁটা অবলার।।
নিঃশব্দ কান্নার ব্যাথা কী প্রাণেশয়।
সর্বনাশা কাঁটা যেন কারোর কাঁটা না হয়।
ধিক্কার! কাঁটার গায়ে অশেষ বসন্ত ফুটুক।
ভোরের তেজোমূর্তি আরও তেজি হয়ে উঠুক।
প্রীতম শীল
আক্তার হোসেন
শীতের সকাল
ঘুম ভেঙেছে পাখিদের কোলাহলে,
ভ্রমরের গুঞ্জন শোনা যায় ফুলে ফুলে।
শিশিরের বিন্দু ছড়িয়ে পড়েছে ঘাসে,
দোয়েলেরা ডাকছে তাদের প্রিয় কার্তিক মাসে।
কাশ ফুলগুলো দুলছে শীতের হিমেল হাওয়ায়,
হয়ে উঠেছি মনমাতানো তাদের আলতো ছোঁয়ায়।
কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে বাংলার গ্রাম,
তাহার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে শিমূল,পলাশ, জাম।
নদীর জল বয়ে যাচ্ছে ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দে,
হাঁস গুলো সব চলছে তাদের মনের আনন্দে।
ধানের শীষ বেয়ে পড়ছে শিশিরের কণা,
গ্রামবাংলার অপরূপ দৃশ্যে মন হয়ে উঠে আনমনা।
খেজুরের রস তুলতে গাছিয়ারা যাচ্ছে আঁকাবাকা পথ বেয়ে,
অধীর অপেক্ষায় শিশুরা আছে তাদের পথ চেয়ে।
পলাশের বনভূমির মাঝে উঁকি দিয়েছে সূর্যের সোনালী আলো,
বাংলার শীতের সকাল কে আমি বাসিয়াছি ভালো।
অনুপম রায়
সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...