Saturday, November 21, 2020

পরিতোষ সরকার

রক্তিম আকাশে তোমার স্মৃতি

দিনের শেষে যখন বসন্তের লাল আবিরে
সেঝে উঠে পৃথিবী,
নীলরঙা জলাশয় যখন রক্তিম হয়ে উঠে,
জীবনানন্দের হায় চিলরা ডানা মেলে
নিজেদের প্রেমিকা আর ছোট চিলে কোঠার
উদ্দেশ্যে র‌ওনা দেয়,
সুকান্তের ঝলসানো চাঁদ উঁকি মারে
বিরাট আকাশের বুক চিড়ে;
তখন সকল ক্লান্তি ভূলে আমার প্রিয়াশ্রীর
কথা আর অসংখ্য স্মৃতি ভেসে আসে
মনের প্রতিটি আনাচে-কানাচে।
দু-একটা শ্রমিকের দল ঘরে ফিরে যায়,
জেলেরা নৌকা ঠেকায় তীরে।
আর আমি প্রিয়ার হাত ছোঁয়ার আশা নিয়ে
বসে থাকি কোনো একটা গাছের নিচে
উড়ে যাওয়া সারিবদ্ধ বলাকার পানে চেয়ে।

বিপাশা দেব

বহু সঙ্গমী

মেঘের ভাঁজে গোধূলি ল্যাং মারে
সন্ধ্যার মাস্তানকেও।

বহু সংগমির প্রথমে মুখ, পরে দেহ ..... 
পরে চাঁদের সাথে শোয়।
ফষ্টিনষ্টি চলে বহুক্ষণ.... 
সূর্য কড়া নাড়লে
দুজনের হাঁপিয়ে ওঠা
অপাপবিদ্ধ অবস্থান
দ্বিধাহীন ভাব
কি যেন দংশায়

দোষহীন জানলার কাঁচ 
স্টেশন পেরিয়ে ট্রেন ধরে

চরিত্রহীনদের এইতো বিজয়। 

সাধনা দেবনাথ

মা ও মেয়ে
                      

ও পাড়ার কমলী আজ আত্মহত্যা করেছে,

তার যে মস্ত বড় দোষ,মেয়ে জন্ম দিয়েছে।
মায়েরা ছেলের সবটাই শুনে বউয়ের একটাও না।
আরে হতভাগা তুই তোর মাকে বোঝাতে পারলি না।
তুমিও তো দাদুর মেয়েছিলে,আজকে আমার মা
সেই তুমিই আমার মেয়ে হয়েছে বলে ওর মুখটিও দেখছনা।
মেয়ে হয়েছে বলে শাশুড়ি,ননদ গায়ে দিল হাত
মেয়ে জন্ম দেওয়া কি একটা মায়ের এতই অপরাধ?
পৃথিবীতে মেয়েরাই তো অনুভব করতে পারে মায়ের যন্ত্রণা।
হতভাগা ছেলেদের তো অনুভব করা ভাগ্যেই জুটে না।
দুর্গা মাকে প্রণাম কর লক্ষ্মীকে নিত্য পূজা অর্চনা-
সব মেয়ে তো মায়েরই রূপ তোমরা সেটা মান না।
মেয়েই মা, মা ও মেয়ে পরম পিতার দান।
মেয়ে হয়েও তোমরা কেন কর মেয়েদের অপমান?

শুভশ্রী দাস

ভয় দেখাবেন না

আর যাই করুন,ভয় দেখাবেন না।
কারন ঐটা ছাড়া আপনারা আর কিছুই পারেন না।
জন্ম র সময় থেকেই, এটা করো না সন্তান এর অমঙ্গল হবে।
এখানে থাকো চুপটি করে,একটা কথা বোলো না।
টাকা থাকলেই যদি ভালো মানুষ হতো,
তাহলে তো আত্মহত্যা শব্দ টাই উঠে যেত ।
ছেলেদের ভয়ে একা রাস্তায় যেও না,
বরং ছেলেকেই সঙ্গ করো।
সে যেন ভালো ছেলে হয় ।
তোমার মতের ভালো ছেলে নয় ।
আমার মতের ছেলে।
মেয়েরা নাকি হিংসুটে আর বেয়াদব।
ছেলেরা কী সবটা ভালো ।
ভালো ছেলে যেমন হয়।
ভালো মেয়েও হয়।
আর যাই হোক ভয় দেখাবেন না।
সূর্যের তেজ এর মতো রাতের অন্ধকার ও।
দুই কে মানুষ ভয় পায়।
যিনি আদি সৃষ্টির মূল,তিনিই ধ্বংস ।
ভয় যদি পেতেই হয়, তাকেই পাব।
দয়া করে আপনারা ভয় দেখাবেন না।
কে বা বলতে পারে,
আমার ভয়েই আপনি ভীত ।তাই ভয় দেখাচ্ছেন ।

অভিজিৎ রায়

অনামিকা

যে ছেড়ে যেতে চাইছিল ছেড়ে দিলাম আমি।
বিধাতা যাকে ঠিক করে রেখেছিল
এখন বুঝতে পারলাম সে যে কত দামী।।
 

শুনেছি একটা মেয়েকে কখনো বিশ্বাস করা যায় না।
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যাকে বিশ্বাস না করে পৃথিবীতে স্বপ্ন দেখা যায় না।।

শুনেছি একটা মেয়ে কখনো সৎ হতে পারে না।
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যে শিখিয়ে দিল সততা ছাড়া বাঁচাই যায় না।।

শুনেছি একটা মেয়ে কখনও ভালোবাসতে পারে না,
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যে শিখিয়ে দিল ভালোবাসা ছাড়া একটা মুহূর্তই বাঁচাই যায় না।।

শুনেছি একটা মেয়ের শশুর শাশুড়ীর কে অবহেলা করে।
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যে শশুর শাশুড়ীর কে ভগবান রূপে আগলে ধরে।।

শুনেছি একটা মেয়ের নাকি বিয়ের পর আলক্ষী রূপে পরিচিত হয়।
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যে সংসারে আসার পর যেন স্বয়ং লক্ষী রূপে ভূষিত হয়।।

শুনেছি একটা মেয়ের নাকি কখনো কষ্ট সহ্য করতে পারে না।
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যে হাসিমুখে অনেক অকল্পনীয় কষ্ট সহ্য করলেও কাউকে বুঝতে দেয় না।।

একটা মেয়ের নাকি কখনো দারিদ্রতা সহ্য করতে পারে না।
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যে ছোট বেলা থেকেই দারিদ্রতা ছাড়া কিছুই চুখে দেখলো না।।

শুনেছি একটা মেয়ের নাকি, ভালো কাউকে পেলে নিজের স্বামীকে ও ছাড়তে ভুলে না
কিন্তু এই সেই অনামিকা, 
যার ভালোবাসায় সামনে একটা কাটাও আসতে দেয় না।।

মনে প্রশ্ন জাগছে 
কে সে এই অনামিকা যার কথা শুনে বিশ্বাস হচ্ছে না।
এই অনামিকা তো সেই অনামিকা,
 যে ভগবান শিবের স্ত্রী গৌরী ছাড়া আর কেউই না।

মোহাজির হুসেইন চৌধুরী

রাত্রি এলো কাছে

অবশেষে রাত্রি এলো কাছে 
দুর্লঙ্ঘ পাহাড় ডিঙিয়ে একপা একপা করে 
ভেজা চোখে রাত্রি এলো 
বসনে সুসজ্জিত বাসরের সুগন্ধির মতো 
দুরারোধ্য আকর্ষণে চোখের পাতায় শিশিরের ভেজা বালু 
দুই হাতে রক্ত ক্ষত মা কালীর প্রসন্নতা 
চণ্ডীমূর্তি রাত্রি এলো 
ঘোলাজলে প্রতিবিম্ব ঢেউ খেলে 
এক থেকে শতকের রূপচিহ্ন ভেসে ওঠে 
ভাসানের আগে 

অবশেষে রাত্রি এলো কাছে 
প্রীতি ও শুভেচ্ছার সহস্র ডালা 
জোনাকির ক্ষীণ আলো সাজিয়ে 
 চন্দ্রিমার    অহংকার পদতলে মাড়িয়ে 
দুইহাতে চেপে ধরে 
রাত্রি এলো চরম প্রকাশে।   

মাহমুদ মুকিত

জীবন সারি


এই যে আকাশ কাঁদছে ভারি
দেখছে কি কেউ কার সাথে কার কখন আড়ি ? 
হঠাৎ কেন মাঝ দুপুরে নিকষ কালো সন্ধ্যে এলো
কেন-বা ওই রাতের তারা মান করে আজ খুব ঘুমালো ! 
কেউ জানে না,
ভিতর কেন জ্বলছে তবু বাইরে তার বুজছে আলো! 
কিসের ক্ষত কেমন করে
পঁচন ধরে, 
শুরুতেই নিঃশেষ হলো।
দিবস নিশি কতই খেলা 
কেউ দেখে না কারো জ্বালা
কেউ বোঝে না নিজের ছাড়া
ব্যথা কত তীব্র ভাবে দিচ্ছে নাড়া। 
আধ চক্রেই ধুঁকছে গাড়ি
ফিরছে সবে নিত্য বাড়ি
মুছে গেলে মেঘের আড়ি
জোছনা গায় সুখের সারি।

সংগীতা শীল

বকবকানি
     

সকালে ঘুম ভাঙে অনিমেষ কাকুর ঝাঁঝালো কন্ঠস্বরে । প্রতিদিন একই ডাইলগ "মজুমদার বাড়ির ছেলেকে দেখে কিছু শিখতে পারিস না? দেখ তো ছেলেটা  কেমন সারাদিন পড়াশুনা নিয়ে থাকে। আর তুই কিনা ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকিস। দিন দিন অমানুষ হচ্ছিস; কাজকর্ম তো নেই, বাপের হোটেলে খাচ্ছিস দাচ্ছিস,  এভাবে আর কতদিন!"

এমন ডাইলগে বন্ধুরা সবাই কমবেশ অভ্যস্ত, এক কান দিয়ে ঢোকে, আরেক কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর হজমীগুলির মত বিকালের মিটিংও মিস হয় না।
 সেদিন বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম, দেখলাম 'সোমু' বেশ চুপচাপ। 
'হৃত্তিক'টা হুট করে বলে উঠলো; "কিরে বাপের বেটা আজও গালি খেয়ে এলি নাকি!" হাসির কথায়  বেশ জমে উঠলো আড্ডা ।

  আমি চাপা সুরে সোমুকে বললাম, বন্ধু মন খারাপ করিস না। 
সোমু বললো বাবার কথায় কষ্ট পাইনারে, নিজের উপর রাগ হয়। 
শুধালাম কেন? 
বললো "যদি আমিও 'কিষাণে'র মতো হতে পারতাম মেধাবী ছাত্র! তাহলে হয়তো রোজ রোজ কথা শুনতে হতো না।"

হেসে বললাম হাতের আঙ্গুলগুলো কি সব সমান? কিষাণ পড়াশুনোতে খুব ভালো কিন্তু ও কি তোর মতো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে?  রমেশের মতো গাইতে পারে! অপুর  মত ভালো নাচতে পারে?  ওরা সবাই পড়াশুনোয় অশ্বডিম্ব। হাহাহা! 
আবার অখিল সারাদিন পড়েও সেই টেনেটুনে পাশ করে। পারুলকে দেখ সারাদিন ঘুরেবেড়ায় তবুও ক্লাশে টপ করে প্রতিবার। আমি মনে করি সমসাময়িককে নকল নয়, এমন কাজ করবো যেন অন্যরা আমাকে নকল করে। তাহলেই  অভিভাবকদের বিশ্বাস বাড়বে, বকবে না।

সোমু কিছুই বললো না, কিন্তু অনুভব করলাম, তার  চোখগুলিতে আলাদা একটা দ্যুতি খেলছে।

আড্ডা শেষে যার যার বাড়ি ফিরে গেলাম। এভাবেই কেটে যায় কলেজ দিনগুলি।  একদিন শুনি মাস্টার কাকু ছেলেকে বকে বলছে "কি খেলা খেলিস, সোমুর মত অনারিয়াম আনতে পারিস না!"

গৌতম দাস

অবলার পথের কাঁটা
                                        
মুক্ত চিত্তে পথে হাঁটার সুযোগ নেই অবলার
শুধু কাঁটা আর কাঁটা।
হাটে ঘাটে মাঠে , তেল মেখে দাঁড়িয়ে থাকে।
কাঁটার মুখে বারবার পড়ে ঝাঁটা।
তবুও হয় না সাফ।

আরও ধৈর্য্য নিয়ে বসে, শক্ত করে বুকের পাটা।
অবলা মেধায় শ্রেষ্ঠ ইচ্ছা শক্তি যথেষ্ট।
দেশ দুনিয়ার নাম করবে একথা স্পষ্ট।
পথের কাঁটা বলে-তার কত সাহস?
সকালে বাজারে ,বিকালে যায় খেলায়
মেয়ে মানুষ!ঘরের রান্না করাটা মানায়।
উচ্চ মাধ্যমিক বাহ্ বেশ,কলেজ?অযথা টাকা নষ্ট।
কাঁটার তালে ,পরিবার বিয়ে দিতে হল সচেষ্ট।

যদি বলি জুতা কোথায়?প্রশ্নটা পাপে পূর্ণ।
ব্যাথার ঔষধ?এখনও আবিষ্কারে শূন্য।
শক্ত এই কাঁটা অতি জঘন্য।
শোনো বোনরা যদি হও সাদাসিধে!
নানা বর্ণের কাঁটা নির্দ্বিধায় পায়ে বেঁধে।।
ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে হল চুরমার।।
বাধা হয়ে দাঁড়াল পথের কাঁটা অবলার।।
নিঃশব্দ কান্নার ব্যাথা কী প্রাণেশয়।
সর্বনাশা কাঁটা যেন কারোর কাঁটা না হয়।
ধিক্কার! কাঁটার গায়ে অশেষ বসন্ত ফুটুক।
ভোরের তেজোমূর্তি আরও তেজি হয়ে উঠুক।

প্রীতম শীল

বেকারের আর্তনাদ
       
রাজনীতির যাঁতাকলে,
শিক্ষা আজ অসহায়।
লক্ষ বেকারের হতাশায়,
কার কি আসে যায়।
টাকার কাছে শিক্ষা আজ,
মেনেছে নিদারুণ হার।
টাকা দিয়ে মূর্খরাও জ্ঞানি হয়, 
গলায় দিয়ে অলংকার। 
বেকার বসে ভাবি হায়,
আমি বড়ো অসহায়।
এই জীবন রেখে লাভ কি?
আমি যে নিরুপায়।।
তবুও লড়াই করে,
শেষে ঝরে পড়ে।
পৃথিবী ত্যাগ করে।
ইতিহাস গড়ে বারে বারে।।
আমিও তাদেরই একজন,
এ জগৎ-সংসারে। 
অপেক্ষায় থাকবো তোমার,
পৃথিবীর ঐপাড়ে।

আক্তার হোসেন

শীতের সকাল

ঘুম ভেঙেছে পাখিদের কোলাহলে,
ভ্রমরের গুঞ্জন শোনা যায় ফুলে ফুলে। 
শিশিরের বিন্দু ছড়িয়ে পড়েছে ঘাসে,
দোয়েলেরা ডাকছে তাদের প্রিয় কার্তিক মাসে।
কাশ ফুলগুলো দুলছে শীতের হিমেল হাওয়ায়,
হয়ে উঠেছি মনমাতানো তাদের আলতো ছোঁয়ায়। 
কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে বাংলার গ্রাম, 
তাহার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে শিমূল,পলাশ, জাম।
নদীর জল বয়ে যাচ্ছে ঢেউয়ের ছন্দে ছন্দে, 
হাঁস গুলো সব চলছে তাদের মনের আনন্দে।
ধানের শীষ বেয়ে পড়ছে শিশিরের কণা, 
গ্রামবাংলার অপরূপ দৃশ্যে মন হয়ে উঠে আনমনা।
খেজুরের রস তুলতে গাছিয়ারা যাচ্ছে আঁকাবাকা পথ বেয়ে,
অধীর অপেক্ষায় শিশুরা আছে তাদের পথ চেয়ে। 
পলাশের বনভূমির মাঝে উঁকি দিয়েছে সূর্যের সোনালী আলো, 
বাংলার শীতের সকাল কে আমি বাসিয়াছি ভালো।

অনুপম রায়

সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর কি অবসাদ সেটা ধারণা না থাকাই ভালো। যাদের তুমি রেখে গেছ আমাদের হয়ে, তারা এখন উন্মাদ শহরের এক কোণে বসে শ্বাস নেয়। জ...